শিরোনাম: 
●   প্রখ্যাত মঞ্চ, টেলিভিশন ও চলচ্চিত্র অভিনেতা হুমায়ুন ফরীদির ৭ম মৃত্যুবার্ষিকীতে শ্রদ্ধাঞ্জলি ●   বসন্তের আগমন মানেই তরুণ হৃদয়ে নতুন প্রাণের সঞ্চার আর তারুণ্যের সাহসী উচ্ছ্বাস ●   উনিশ শতকের নব জাগরণের শ্রেষ্ঠ প্রতিভা, বাঙালির প্রমিথিউস মাইকেল মধুসূদন দত্তের ১৯৫তম জন্মবার্ষিকীতে শুভেচ্ছা ●   আজ শুক্রবার, সপ্তাহের সকল দিনের শ্রেষ্ঠ দিন জুম্মাবার সবাইকে জুম্মা মোবারক। ●   ইংরেজ রাজনীতিবিদ ও লেখক উইনস্টন চার্চিলের ৫৪তম মৃত্যুবার্ষিকীতে গভীর শ্রদ্ধাঞ্জলি ●   সাহিত্যরত্ন মুনশী আশরাফ হোসেনের ৫৪তম মৃত্যুবার্ষিকীতে শ্রদ্ধাঞ্জলি ●   ২৪ জানুয়ারি, ‘৬৯ এর গণ-অভ্যুত্থান দিবসঃ ঐতিহাসিক এই দিনটিকে স্মরণ করছি গভীর শ্রদ্ধায় ●   বাংলাদেশের চলচ্চিত্র জগতের খ্যাতিমান অভিনেতা অমল বোসের সপ্তম মৃত্যুবার্ষিকীতে শ্রদ্ধাঞ্জলি ●   উনিশ শতকে বাংলা সাহিত্যের উল্লেখযোগ্য কবি নবীনচন্দ্র সেন এর ১১০তম মৃত্যুবার্ষিকীতে শ্রদ্ধাঞ্জলি ●   খ্যাতিমান স্পেনীয় পরাবাস্তববাদী চিত্রকর সালভাদর দালির ৩০তম মৃত্যুবার্ষিকীতে শ্রদ্ধাঞ্জলি
ঢাকা, বৃহস্পতিবার, ২৫ এপ্রিল ২০১৯, ১১ বৈশাখ ১৪২৬
NEWS CHANNEL
প্রচ্ছদ » তথ্যপ্রযুক্তি » ইলেক্ট্রনিকস বর্জ্যঃ স্বাস্থ্য ও পরিবেশের জন্য মারাত্মক হুমকি
রবিবার ● ৬ জানুয়ারী ২০১৯, ১১:০১ মিনিট
Email this News Print Friendly Version

ইলেক্ট্রনিকস বর্জ্যঃ স্বাস্থ্য ও পরিবেশের জন্য মারাত্মক হুমকি

 ---

প্রযুক্তির সঙ্গে এগিয়ে যাওয়ার পাশাপাশি বাড়ছে প্রযুক্তি পণ্যের ব্যবহার। ডেস্কটপ পিসির জায়গা দখল করে নিয়েছে ল্যাপটপ। ল্যাপটপ বদলে ট্যাব, ফিচার ফোনের বদলে স্মার্টফোন, সিআরটি মনিটরের জয়গা দখল করেছে এলসিডি, এলইডি মনিটর। এভাবেই নতুন নতুন সংস্করণের ডিভাইস বিদায় জানাচ্ছে পুরোনো ডিভাইসকে। দিন দিন বাড়ছে ই-বর্জ্যের স্তুপ। প্রতিবছর বিশ্বে এই ই-বর্জ্য শতকরা ৫-১০% হারে বাড়ছে এবং এই বর্জ্যের শতকরা ৫ ভাগের বেশী পুনরুদ্ধার করা যায় না। বিশ্বজুড়ে বৈদ্যুতিক যন্ত্রপাতির বর্জ্য বা ই-বর্জ্য ২০২৫ সালের মধ্যে ৪০ শতাংশ বৃদ্ধি পেতে পারে। এ সমস্যার সমাধানে জাতিসংঘসহ কয়েকটি সংগঠন বিশ্বের মোট ই-বর্জ্যের পরিমাণ হিসাব করেছে। পরিত্যক্ত রেফ্রিজারেটর, টেলিভিশন, মুঠোফোন, মনিটর ইত্যাদি ই-বর্জ্যের অন্তর্ভুক্ত। এসব বর্জ্য রূপান্তর না করলে পরিবেশ দূষণ বাড়তে পারে। গবেষকদের অনুমান, সারা বিশ্বের এসব বর্জ্যের ওজন হবে প্রায় ২০০টি এম্পায়ার স্টেট বিল্ডিংয়ের (নিউইয়র্ক) ওজনের সমান। সুষ্ঠু ব্যবস্থাপনার অভাবে বাতিল ইলেক্ট্রনিক পণ্য– ই-বর্জ্য এখন মারাত্মক পরিবেশ ও স্বাস্থ্য ঝুঁকির কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে। জীববৈচিত্র হুমকির পাশাপাশি দেশে ১৫ শতাংশ শিশুমৃত্যুরও কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে এ বর্জ্য। গবেষকরা বলছেন, ই-বর্জ্যের সবচেয়ে বড় বিপদ হচ্ছে, বিষাক্ত কয়েক ধরনের রাসায়নিক পদার্থ এবং বিপুল পরিমাণ প্লাস্টিক সামগ্রী। আর সুনির্দিষ্ট নীতিমালা বা আইন না থাকায় ডিজিটাল বর্জ্য ভাগাড় হতে চলেছে বাংলাদেশ। তারা এসব ই-বর্জ্য সঠিকভাবে ব্যবস্থাপনার জন্য সচেতনতা সৃষ্টির পাশাপাশি বছর চারেক আগের খসড়া নীতিমালাকে আইনে পরিণত করার তাগিদ দেন। তারপরও দীর্ঘ পাঁচ বছর ধরে ঝুলে রয়েছে ই-বর্জ্য ব্যস্থাপনা বিষয়ক নীতিমালা। ২০১১ সালে ই-বর্জ্য ব্যবস্থাপনা খসড়া আইন ও বিধিমালা তৈরি করে পরিবেশ অধিদফতর। পরে ওই খসড়া আইন ভেটিংয়ের জন্য পাঠানো হয় আইন মন্ত্রণালয়ে। কিন্তু আইন মন্ত্রণালয় মতামত না দেয়ায় আইনটি প্রণয়নের কাজ থমকে রয়েছে। এছাড়া ই-বর্জ্য সুষ্ঠু ব্যবস্থাপনা নিয়ে ১৯৮৯ সালে শুরু হওয়া বেসেল কনভেনশনের স্বাক্ষর সংগ্রহ কর্মসূচিতে স্বাক্ষর করেছে বাংলাদেশ। এরপরেও সরকারি নীতি-নির্ধারক মহল বিষয়টি গুরুত্বসহ বিবেচনা না করলে আগামী দিনে দেশ একটি বড় ধরনের বিপর্যয়ের মুখে পড়তে পারে, এমনটিই আশংকা বিশেষজ্ঞদের।


বাংলাদেশে এখন ১৩ কোটি মুঠোফোন—এই তথ্য এখন আর কাউকে বিস্মিত করে না। বিস্মিত হতে হয়, যখন দেখি যে প্রতিবছর ২৫-৩০ শতাংশ মুঠোফোনের ব্যবহারের মেয়াদ শেষ হয়ে যাচ্ছে, কিন্তু সেগুলো কোথায় যাচ্ছে তা অধিকাংশ মানুষই জানে না, জানার প্রয়োজনও বোধ করে না। ১৩ কোটি মুঠোফোনের ব্যবহারের মেয়াদ শেষ হওয়ার পরে ১৩ কোটি ব্যাটারি কোথায় যাবে—এ কথা ভাবলেই আন্দাজ করা যাবে বাংলাদেশের মতো অতিরিক্ত জনঘনত্বের এই দেশে ইলেকট্রনিক বর্জ্য ভবিষ্যতে কত বড় সমস্যা হয়ে উঠতে পারে। শুধু মুঠোফোন নয়, কম্পিউটারসহ সব ধরনের ইলেকট্রনিক ও ইলেকট্রিক যন্ত্রপাতিতে অনেক ধাতব ও রাসায়নিক উপাদান থাকে। যন্ত্রগুলো মেয়াদোত্তীর্ণ হয়ে যাওয়ার পরে সেগুলোর যথাযথ ব্যবস্থাপনা করা না হলে প্রাকৃতিক পরিবেশ ও মানুষের স্বাস্থ্যের জন্য যে ক্ষতিকর অবস্থা তৈরি হতে পারে, তা সম্পর্কে শিল্পোন্নত ও ধনী দেশগুলো অনেক আগেই সচেতন হয়েছে এবং এ ব্যাপারে অনেক ধরনের আইনকানুন ও বিধিবিধান প্রণয়ন করেছে। শুধু তা–ই নয়, অনেক ধনী ও চালাক দেশ তাদের ইলেকট্রনিক বর্জ্য নানা কারসাজির মাধ্যমে রপ্তানি করছে উন্নয়নশীল দেশগুলোতে। ২০১৪ সালে পৃথিবীতে মোট উৎপাদিত ইলেট্রনিক বর্জ্যের পরিমাণ ছিল ৪ কোটি ২ লাখ মেট্রিক টন। এর সিংহভাগ উৎপন্ন হয়েছে ইউরোপ-আমেরিকার উন্নত দেশগুলোতে, কিন্তু ৯০ শতাংশই রপ্তানি বা ‘ডাম্প’ করা হয়েছে এশিয়া ও আফ্রিকার উন্নয়নশীল দেশগুলোতে।


সুইডেনের প্রকৃতি সংরক্ষণবিষয়ক একটি সংগঠন এসএসএনসির অর্থায়নে বাংলাদেশের বেসরকারি সংস্থা এনভায়রনমেন্ট অ্যান্ড সোশ্যাল ডেভেলপমেন্ট অর্গানাইজেশন (ইএসডিও) পরিচালিত ‘ই-বর্জ্য: বাংলাদেশের বর্তমান চিত্র-২০১৪’ শীর্ষক গবেষণা প্রতিবেদনের তথ্য অনুসারে, ২০১১-১২ অর্থবছরে দেশে বাতিল হয়ে যাওয়া ই-বর্জ্যের পরিমাণ ছিল প্রায় ৫১ লাখ টন। ২০১৩-১৪ অর্থবছরে তা প্রায় দ্বিগুণ বেড়ে ১ কোটি ১০ লাখ টনে দাঁড়ায়। এর মধ্যে মোবাইল, টেলিভিশন এবং কম্পিউটার তৈরির বর্জ্যের পরিমাণ বেশি। এদিকে বাংলাদেশে জাহাজভাঙা শিল্পের জন্য আমদানি করা প্রতিটি জাহাজে বিভিন্ন প্রকারের বিপুল পরিমাণ অব্যবহৃত বৈদ্যুতিক পণ্য থাকায় এ থেকে তৈরি হওয়া বর্জ্য বেশি। এর বাইরে সিএফএল বাতি, মার্কারি বাতি, থার্মোমিটারসহ নানা প্রকারের চিকিৎসা ও গৃহস্থালি যন্ত্র থেকে তৈরি হয় বর্জ্য। ইএসডিও’র গবেষণাটি করা হয় প্রশ্নপত্র জরিপের ভিত্তিতে। মূলত ঢাকা এবং চট্টগ্রামে ২০১৩ সালের ডিসেম্বর থেকে ২০১৪ সালের জুলাই পর্যন্ত পরিচালিত এ জরিপের জন্য বাসাবাড়ি ও বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের বৈদ্যুতিক পণ্য ব্যবহারকারী, আমদানিকারক, বিক্রেতা, মেরামতকারী এবং বাতিল হওয়া পণ্য পুনর্ব্যবহারের উপযোগী করে তোলার (রি-সাইক্লিং) কাজে জড়িত ছয় হাজার মানুষের সঙ্গে কথা বলা হয়। গবেষণার সুপারিশে বলা হয়েছে, ই-বর্জ্যের বিষয়ে সঠিক ব্যবস্থাপনা পদ্ধতি দরকার এবং নীতিমালা মানা উচিত, অবৈধভাবে আমদানি করা ই-বর্জ্য ঠেকাতে এবং ভবিষ্যতেএবিষয়ে আরো বেশি বেশি গবেষণা দরকার হবে।


ঢাকার এলিফেন্ট রোড, নিমতলী ও ধোলাইখালে ছাড়াও অনির্দিষ্ট আরও কয়েকটি স্থানে স্তুপ করা হচ্ছে ই-বর্জ্য। ব্যবহার্য প্রযুক্তি পণ্যের পাশাপাশি ই-বর্জ্যের এই পাল্লা ভারি করছে সিঙ্গাপুর, চীন ও কোরিয়া থেকে অবৈধ পথে আসা পুরোনো পণ্য। কখনও নতুন পণ্যের সঙ্গে মিশ্রিতভাবে আবার কখনও অন্য পণ্যের সঙ্গে দেশে ঢুকছে এসব ইলেকট্রনিক সরঞ্জাম যা অল্পদিনেই পরিণত হচ্ছে বাতিল পণ্যে। ফেলে দেয়া হচ্ছে যত্রতত্র। অথচ এসব পণ্যে বিদ্যমান পরিবেশ ও মানবদেহের জন্য মারাত্মক ক্ষতিকর জিংক, ক্রোমিয়াম, নাইট্রাস অক্সাইড, সিসা, পারদ, ক্যাডমিয়াম, বেরিলিয়ামসহ বিভিন্ন রাসায়নিক উপাদান নিরব ঘাতকের মতো খুন করছে মানসিক ও শারীরিক সুস্থতা। ক্যান্সার, কিডনির সমস্যা, উচ্চ রক্তচাপ, থাইরয়েড হরমোনের সমস্যা, নবজাতকের বিকলাঙ্গতাসহ রক্তনালির বিভিন্ন রোগের প্রোকপ বাড়াচ্ছে। দেশের বেসরকারি গবেষণা প্রতিষ্ঠানগুলোর তথ্য অনুযায়ী, প্রতিবছর এখানে জমা হচ্ছে ১০ মিলিয়ন মেট্রিক টন ই-বর্জ্য। প্রতি দুই বছর অন্তর এই বর্জ্যের পরিমাণ দ্বিগুণ বাড়ছে। খোদ পরিবেশ অধিদপ্তরের সমীক্ষা বলছে, ঢাকায় প্রতিদিন প্রায় ৫০০ টন ই-বর্জ্য বাড়ছে। আর দেশে মোট ই-বর্জ্যের ১৫ শতাংশই শুধু তৈরি হয় ঢাকায়। পরিবেশ বিষয়ক বেসরকারি সংস্থা এনভায়রনমেন্ট অ্যান্ড সোশ্যাল ডেভেলপমেন্ট অর্গানাইজেশন (এসডো) এক সমীক্ষা প্রতিবেদনে জানিয়েছে, ২০১১-১২ সালে বাংলাদেশে ই-বর্জ্যের পরিমাণ ছিলো ৫১ লাখ ৮১ হাজার ৪০০ টন। আর ২০১৩-১৪ সালে তা বেড়ে দাঁড়ায় ১ কোটি ১ লাখ ৫ হাজার ৫৭০ টনে। এর মধ্যে শুধু সেলফোন থেকে বছরে হাজার টন আর টেলিভিশন/মনিটর থেকে তৈরি হচ্ছে ১ লাখ ৭০ হাজার টন। ডিভিডি প্লেয়ার, ভিডিও ক্যামেরা, ফ্যাক্স ও ফটোকপি মেশিন, ভিডিও গেমস, মেডিকেল ও ডেন্টাল সরঞ্জামাদি থেকে ১ লাখ টনের বেশি ই-বর্জ্য হয়। বাংলাদেশ ইলেকট্রিক্যাল মার্চেন্ডাইজ ম্যানুফ্যাকচারার্স অ্যাসোসিয়েশনের সূত্রে, বাংলাদেশে প্রতিবছর ৩২ কোটি টন ইলেকট্রনিক পণ্য ব্যবহার করা হয়। তবে এর মধ্যে পুনর্ব্যবহার উপযোগী করা হয় মাত্র ২০-৩০ শতাংশ পণ্য। এ ছাড়া দেশে প্রতিবছর ৫০ হাজারের বেশি কম্পিউটার আমদানি করা হচ্ছে। তবে পুরনো ও নষ্ট হওয়া কম্পিউটারগুলো কী হচ্ছে ই-বর্জ্য ব্যবস্থাপনা বিষয়ক সুনির্দিষ্ট আইন না বা বিধি না থাকার কারণে সে বিষয়টিও এখন উপেক্ষিত রয়েছে। এদিকে আমদানি নীতি আদেশ ২০১২-১৫-এর ২৬(২১) ধারায় পুরনো কম্পিউটার ও যন্ত্রাংশ আমদানিতে নিষেধাজ্ঞা থাকলেও তা না না মানায় এই ই-বর্জ্যের পরিমাণ আশঙ্কা জনক হারে বাড়ছে বলে অভিযোগ রয়েছে। এর ফলে দেশের চিহ্নিত কয়েকটি প্রযুক্তি বাজারে এখন ডেল, এইচপি ব্র্যান্ডের সম্পূর্ণ কম্পিউটার সেট ১০ হাজার টাকার মধ্যে দেয়া সম্ভব হচ্ছে। আর এই সস্তা প্রযুক্তি কিনে কেবল ক্রেতারাই পস্তাচ্ছেন না, হুমকীর মুখে পড়ছে ভবিষ্যত প্রজন্ম।


বিশেজ্ঞরা বলছেন, কম্পিউটারের বর্জ্য মাটিতে পুঁতে ফেলা হচ্ছে। যা থেকে তৈরি হচ্ছে ল্যাকটেটস। এটি মাটির নিচে পানিকে দূষিত করছে। এ ছাড়া বাসাবাড়ির আশপাশে দীর্ঘদিন ফেলে রাখা ই-বর্জ্য থেকেও ভয়াবহ মাত্রার স্বাস্থ্যঝুঁকি তৈরি হচ্ছে। অন্যদিকে দেশের বিভিন্ন বড় বড় সরকারি-বেসরকারি অফিসগুলোতে নষ্ট হয়ে যাওয়া ইলকট্রনিক পণ্যগুলো নিয়ে কোনো মাথাব্যথা নেই। বাংলাদেশ ইলেকট্রনিক বর্জ্যরে ব্যবস্থাপনাবিষয়ক আন্তর্জাতিক ভেসেল কনভেনশনে স্বাক্ষর করছে। কনভেনশনের শর্তানুযায়ী ইলেকট্রনিক বর্জ্যবিষয়ক একটি নীতিমালা বাংলাদেশের তৈরি করার কথা। কিন্তু বাংলাদেশ এখনও তা তৈরি করেনি। এদিকে ই-বর্জ্যরে ভয়াবহতার কথা স্বীকার করে পরিবেশবাদীরা বলছেন, গেল এক দশকে ই-বর্জ্য জনস্বাস্থ্য ও পরিবেশ সংকটে ভয়াবহ মাত্রা যোগ করেছে। ২০১২ সালে ইলেকট্রনিক বর্জ্য নিয়ে ডিসপোজাল ম্যানেজমেন্ট রুল নামে একটি আইনের খসড়া পরিবেশ অধিদফতর থেকে আইন মন্ত্রণালয়ে পাঠানো হয়। কিন্তু এটি এখনও আলোর মুখ দেখেনি। দীর্ঘদিন বিষয়টি নিয়ে আর কোনো কার্যক্রম বন্ধ থাকার পর ২০১৪ সালের ৯ ডিসেম্বর জাতীয় বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি পরিষদের নির্বাহী কমিটির ২২তম সভায় ই-বর্জ্য আইন প্রণয়নের সিদ্ধান্ত গ্রহণ করা হয়। এ সিদ্ধান্তের পর ২০১৭ সালের ১০ জুন ই-বর্জ্য ব্যবস্থাপনা সম্পর্কিত আইন/বিধিমালা পর্যালোচনা করতে ১৫ সদস্যের একটি কমিটি গঠন করা হয়। কমিটি ৯ আগস্ট সর্বশেষ পর্যালোচনা বৈঠক শেষে আইন/বিধির খসড়া চূড়ান্ত করে মন্ত্রণালয়ে পাঠানো হয়। বর্তমানে সেটি আইন মন্ত্রণালয়ের ভেটিংয়ের জন্য অপেক্ষমান রয়েছে। তবে নাম প্রকাশ না করার শর্তে আইন মন্ত্রণালয়ের একজন উপ-সচিব বলেন, সংশ্লিষ্টদের একমত হতে না পারার কারণে আইনটি প্রণয়নে দেরি হচ্ছে। তবে শুধু ই-বর্জ্যের জন্য আইন তৈরি করা হলে সমস্যাও রয়েছে। পরিবেশ সংরক্ষণ আইন সংশোধন করে সব বর্জ্যের জন্য সম্মিলিত একটি আইন করে বিধিমালা সংশোধন করা যায় কিনা তাও বিবেচনা করা হচ্ছে। পৃথিবীতে প্রতি বছর প্রায় ৪ কোটি টন ই-বর্জ্য জমা হয়। প্রতিদিন জমা হওয়া বিষাক্ত বর্জ্যরে প্রায় ৭০ শতাংশই ই-বর্জ্য। তবে পুনঃব্যবহার উপযোগী হলেও এর মাত্র ১২.৫ শতাংশ ব্যবহৃত হয়। পৃথিবীর উন্নত দেশগুলোতে জমা হওয়া ই-বর্জ্যরে প্রায় ৮০ ভাগই এশিয়ার বিভিন্ন দেশে পাঠিয়ে দেয়া হয় পুনঃব্যবহারযোগ্য করে তোলার জন্য। এসব ই-বর্জ্যে বিভিন্ন ধরনের ক্ষতিকর উপাদান যেমন- পারদ, সিসা, আর্সেনিক, ক্যাডমিয়াম, ক্রোমিয়াম ইত্যাদি থাকে; যা পরিবেশ ও মানব স্বাস্থ্যের জন্য খুবই ক্ষতিকর।আমরা যদি সামনের বিপদ দেখতে না পাই, তাহলে ডিজিটাল বাংলাদেশের জন্য ডিজিটাল বা ইলেকট্রনিক বর্জ্যের পাহাড় একটা সময় আমাদের জন্য এক বিরাট অভিশাপ হয়ে উঠতে পারে।

নূর মোহাম্মদ নূরু
গণমাধ্যমকর্মী
nuru.etv.news@gmail.com


স্বপ্ন দেখি একটি সুন্দর হাসি ও দুর্নীতি মুক্ত বাংলাদেশেরঃ কিছু টুকরো কথা

আজ ফেলানী দিবসঃ ভারতীয় সীমান্তরক্ষা বাহিনীর রক্তাক্ত সন্ত্রাসের শিকার ফেলানীর ৮ম মৃত্যুবার্ষিকী আজ


আরো পড়ুন...

প্রখ্যাত মঞ্চ, টেলিভিশন ও চলচ্চিত্র অভিনেতা হুমায়ুন ফরীদির ৭ম মৃত্যুবার্ষিকীতে শ্রদ্ধাঞ্জলি প্রখ্যাত মঞ্চ, টেলিভিশন ও চলচ্চিত্র অভিনেতা হুমায়ুন ফরীদির ৭ম মৃত্যুবার্ষিকীতে শ্রদ্ধাঞ্জলি
বসন্তের আগমন মানেই তরুণ হৃদয়ে নতুন প্রাণের সঞ্চার আর তারুণ্যের সাহসী উচ্ছ্বাস বসন্তের আগমন মানেই তরুণ হৃদয়ে নতুন প্রাণের সঞ্চার আর তারুণ্যের সাহসী উচ্ছ্বাস
উনিশ শতকের নব জাগরণের শ্রেষ্ঠ প্রতিভা, বাঙালির প্রমিথিউস মাইকেল মধুসূদন দত্তের ১৯৫তম জন্মবার্ষিকীতে শুভেচ্ছা উনিশ শতকের নব জাগরণের শ্রেষ্ঠ প্রতিভা, বাঙালির প্রমিথিউস মাইকেল মধুসূদন দত্তের ১৯৫তম জন্মবার্ষিকীতে শুভেচ্ছা
আজ শুক্রবার, সপ্তাহের সকল দিনের শ্রেষ্ঠ দিন জুম্মাবার সবাইকে জুম্মা মোবারক। আজ শুক্রবার, সপ্তাহের সকল দিনের শ্রেষ্ঠ দিন জুম্মাবার সবাইকে জুম্মা মোবারক।
ইংরেজ রাজনীতিবিদ ও লেখক উইনস্টন চার্চিলের ৫৪তম মৃত্যুবার্ষিকীতে গভীর শ্রদ্ধাঞ্জলি ইংরেজ রাজনীতিবিদ ও লেখক উইনস্টন চার্চিলের ৫৪তম মৃত্যুবার্ষিকীতে গভীর শ্রদ্ধাঞ্জলি
সাহিত্যরত্ন মুনশী আশরাফ হোসেনের ৫৪তম মৃত্যুবার্ষিকীতে শ্রদ্ধাঞ্জলি সাহিত্যরত্ন মুনশী আশরাফ হোসেনের ৫৪তম মৃত্যুবার্ষিকীতে শ্রদ্ধাঞ্জলি
২৪ জানুয়ারি, ‘৬৯ এর গণ-অভ্যুত্থান দিবসঃ ঐতিহাসিক এই দিনটিকে স্মরণ করছি গভীর শ্রদ্ধায় ২৪ জানুয়ারি, ‘৬৯ এর গণ-অভ্যুত্থান দিবসঃ ঐতিহাসিক এই দিনটিকে স্মরণ করছি গভীর শ্রদ্ধায়
বাংলাদেশের চলচ্চিত্র জগতের খ্যাতিমান অভিনেতা অমল বোসের সপ্তম মৃত্যুবার্ষিকীতে শ্রদ্ধাঞ্জলি বাংলাদেশের চলচ্চিত্র জগতের খ্যাতিমান অভিনেতা অমল বোসের সপ্তম মৃত্যুবার্ষিকীতে শ্রদ্ধাঞ্জলি
উনিশ শতকে বাংলা সাহিত্যের উল্লেখযোগ্য কবি নবীনচন্দ্র সেন এর ১১০তম মৃত্যুবার্ষিকীতে শ্রদ্ধাঞ্জলি উনিশ শতকে বাংলা সাহিত্যের উল্লেখযোগ্য কবি নবীনচন্দ্র সেন এর ১১০তম মৃত্যুবার্ষিকীতে শ্রদ্ধাঞ্জলি
খ্যাতিমান স্পেনীয় পরাবাস্তববাদী চিত্রকর সালভাদর দালির ৩০তম মৃত্যুবার্ষিকীতে শ্রদ্ধাঞ্জলি খ্যাতিমান স্পেনীয় পরাবাস্তববাদী চিত্রকর সালভাদর দালির ৩০তম মৃত্যুবার্ষিকীতে শ্রদ্ধাঞ্জলি

পাঠকের মন্তব্য

(মতামতের জন্যে সম্পাদক দায়ী নয়।)
প্রখ্যাত মঞ্চ, টেলিভিশন ও চলচ্চিত্র অভিনেতা হুমায়ুন ফরীদির ৭ম মৃত্যুবার্ষিকীতে শ্রদ্ধাঞ্জলি
বসন্তের আগমন মানেই তরুণ হৃদয়ে নতুন প্রাণের সঞ্চার আর তারুণ্যের সাহসী উচ্ছ্বাস
উনিশ শতকের নব জাগরণের শ্রেষ্ঠ প্রতিভা, বাঙালির প্রমিথিউস মাইকেল মধুসূদন দত্তের ১৯৫তম জন্মবার্ষিকীতে শুভেচ্ছা
আজ শুক্রবার, সপ্তাহের সকল দিনের শ্রেষ্ঠ দিন জুম্মাবার সবাইকে জুম্মা মোবারক।
ইংরেজ রাজনীতিবিদ ও লেখক উইনস্টন চার্চিলের ৫৪তম মৃত্যুবার্ষিকীতে গভীর শ্রদ্ধাঞ্জলি
সাহিত্যরত্ন মুনশী আশরাফ হোসেনের ৫৪তম মৃত্যুবার্ষিকীতে শ্রদ্ধাঞ্জলি
২৪ জানুয়ারি, ‘৬৯ এর গণ-অভ্যুত্থান দিবসঃ ঐতিহাসিক এই দিনটিকে স্মরণ করছি গভীর শ্রদ্ধায়
বাংলাদেশের চলচ্চিত্র জগতের খ্যাতিমান অভিনেতা অমল বোসের সপ্তম মৃত্যুবার্ষিকীতে শ্রদ্ধাঞ্জলি
উনিশ শতকে বাংলা সাহিত্যের উল্লেখযোগ্য কবি নবীনচন্দ্র সেন এর ১১০তম মৃত্যুবার্ষিকীতে শ্রদ্ধাঞ্জলি
খ্যাতিমান স্পেনীয় পরাবাস্তববাদী চিত্রকর সালভাদর দালির ৩০তম মৃত্যুবার্ষিকীতে শ্রদ্ধাঞ্জলি