শিরোনাম: 
●   স্বাধীনতার পক্ষে ভোট দিতে বললেন- আবুল হাসানাত আবদুল্লাহ ●   ‘মাত্র এক দিন, আর পারছি না!’ ●   চুল পড়া রোধে চার খাবার ●   বিশ্বের ক্ষমতাধর নারীর তালিকায় হাসিনার অবস্থানের উন্নতি ●   সাতলা কচা নদীতে অনুষ্ঠিত হলো নৌকা বাইচ ●   উজিরপুর বিভিন্ন পূজা মন্ডব পরিদর্শন করেন এডভোকেট তালুকদার মু. ইউনুস এমপি ●   বরিশালে ক্যাপ্টেন মোয়াজ্জেমের বিরুদ্ধে ভূমিদস্যুতার অভিযোগ ●   বিশ্বব্যাপী শ্রমজীবী মেহনতি মানুষের সংহতি প্রকাশের দিনঃ আন্তর্জাতিক শ্রমিক তথা ঐতিহাসিক মে দিবস আজ ●   সাতলায় বাড়ির ছাদ থেকে সায়েম নামে এক শিশুর লাশ উদ্ধার ●   সৌদি-কাতার সীমান্তে একটি সামুদ্রিক চ্যানেল নির্মাণ নিয়ে দন্ধ
ঢাকা, সোমবার, ১৭ ডিসেম্বর ২০১৮, ৩ পৌষ ১৪২৫
NEWS CHANNEL
প্রচ্ছদ » এই দিনে » বাংলা গানের বরেণ্য শিল্পী নিলুফার ইয়াসমিনের ১৪তম মৃত্যুবার্ষিকী আজ
শনিবার ● ১০ মার্চ ২০১৮, ০৩:০৩ মিনিট
Email this News Print Friendly Version

বাংলা গানের বরেণ্য শিল্পী নিলুফার ইয়াসমিনের ১৪তম মৃত্যুবার্ষিকী আজ

 ---

ঢাকা, ১০ মার্চ ২০১৮, শনিবারঃ জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কার প্রাপ্ত বাংলাদেশের বরেণ্য সঙ্গীতশিল্পী নিলুফার ইয়াসমিন। সময়ের গড্ডালিকা প্রবাহে সৃজনশীলবাংলা গান যখন ভেসে যাচ্ছিল, তখন গুটিকয় শিল্পী ভালোবাসা দিয়ে উজ্জীবিত করেছেন আমাদের নিজস্ব গীতি, নিঃসন্দেহে নীলুফার ইয়াসমীন তাঁদের অন্যতম। একনিষ্ঠ শিল্পী বলতে যা বোঝায় নীলুফার ছিলেন তা-ই। তাঁর অপার ভক্তি ছিল সংগীতের প্রতি, শিক্ষকের প্রতি, শ্রোতার প্রতিও। নিলুফার ইয়াসমিনের উচ্চাঙ্গ সংগীত শেখা শুরু হয় ওস্তাদ পি সি গোমেজ এর কাছে ১৯৬৪ সালে ৷ একাধারে ১৯৮৪ সাল পর্যন্ত তিনি উচ্চাঙ্গ সঙ্গীত শেখেন ৷ তারপর উপমহাদেশের প্রখ্যাত ওস্তাদ বড়ে গোলাম আলী খাঁ-র সুযোগ্যা ছাত্রী মীরা ব্যানার্জীর কাছে তালিম নেন ৷ এরপর প্রখ্যাত সারেঙ্গী বাদক ওস্তাদ সগীরউদ্দীন খাঁ ওমুরশিদাবাদের স্বনামধন্য ওস্তাদ এ দাউদ সাহেব ও প্রশান্ত বন্দ্যোপাধ্যায়ের কাছে দীর্ঘকাল তালিম গ্রহণ করেন ৷ তিনি নজরুল-সংগীতের প্রাথমিক শিক্ষা পেয়েছেন স্বরলিপিগ্রন্থ থেকে ৷স্বরলিপি অনুসরণ করেই প্রথম দিকে বেতার-টেলিভিশনে নজরুল-সংগীত গেয়েছেন। তিনি প্রখ্যাত কন্ঠশিল্পী, নজরুল-সংগীতস্বরলিপিকার ও বিশেষজ্ঞ শেখ লুত্ফর রহমান ও সুধীন দাশ-এর কাছে নজরুল-সংগীত শিখেছেন ৷বাংলা গানের বরেণ্য শিল্পী নিলুফার ইয়াসমিনের ১৪তম মৃত্যুবার্ষিকী আজ। ২০০৩ সালের এই দিনে মাত্র ৫৫ বছর বয়সে তিনি মৃত্যুবরণ করেন। বরেণ্য সঙ্গীত শিল্পী নিলুফার ইয়াসমিনের ত্রয়োদশ মৃত্যুবার্ষিকীতেআমাদের শ্রদ্ধাঞ্জলি।


নিলুফার ইয়াসমিন ১৯৪৮ খ্রিষ্টাব্দের ১৬ই ফেব্রুয়ারি কলকাতার ১৩০/অ পার্ক স্ট্রীটে জন্মগ্রহণ করেন। তার পিতার নাম লুৎ‍ফর রহমান এবং মায়ের নাম মৌলুদা খাতুন। তার পৈত্রিক বাড়ি সাতক্ষীরার মুকুন্দপুর গ্রামে। নিলুফার ইয়াসমিনের পিতা লুৎ‍ফর রহমানছিলেন অবিভক্ত বাংলার একজন সিভিল সার্ভিস অফিসার এবং মা মুর্শিদাবাদের স্বনামধন্য ওস্তাদ কাদের বক্সের ছাত্রী ছিলেন। তিনি ভাল গান গাওয়া ছাড়াও ভাল হারমোনিয়াম বাজাতে পারতেন। নিলুফার ছিলেন তাঁর পাঁচ বোনের মাঝে চতুর্থ। তার অন্যান্য বোনরা হলেনঃ বড় বোন ফরিদা ইয়াসমিন, মেজো বোন ফওজিয়া খান, সেজো বোন নাজমা ইয়াসমীন হক ও ছোট বোন প্রখ্যাত কণ্ঠশিল্পী সাবিনা ইয়াসমিন। নিলুফার ইয়াসমিনের শৈশব কেটেছে মুর্শিদাবাদ, রাজশাহী এবং ঢাকায়। মায়ের কাছে নিলুফার ইয়াসমিনের সঙ্গীতে হাতেখড়ি। বাসায় গ্রামোফোন রেকর্ড প্লেয়ার ছিল। পিতা নতুন নতুন রেকর্ড কিনে আনতেন আর বোনেরা সবাই মিলে সেসব রেকর্ডের গান বার বার বাজিয়ে শুনে শিখে ফেলতেন। আঙ্গুরবালা, ইন্দুবালা, কমলাঝরিয়া, হরিমতী, কে মল্লিক, জ্ঞান গোস্বামী, শচীনদেব বর্মণ, মৃণালকান্তি ঘোষ, কমল দাশগুপ্ত, আব্বাসউদ্দীনসহ আরও বিখ্যাত সব শিল্পীর গাওয়া রেকর্ড থেকে তাঁর মা গান তুলে গাইতেন এবং তাঁর গাওয়া থেকেই নিলুফার ইয়াসমিন গান শিখে ফেলতেন। তাঁর মা-ই তাঁকে বলতেন যে এ-সব গানগুলোর রচয়িতা কাজী নজরুল ইসলাম। তখন থেকেই নজরুল সঙ্গীতের প্রতি তাঁর আকর্ষণ জন্মে। সংগীত শিক্ষার পাশাপাশি প্রতিষ্ঠানিক শিক্ষায়ও তাঁর ছিলো সমান মনোযোগ। নীলুফার ইয়াসমীনের শিক্ষাজীবন কেটেছে ঢাকাতেই। মতিঝিল সেন্ট্রাল সরকারি বালিকা বিদ্যালয় থেকে তিনি ১৯৬৩ সালে ম্যাট্রিক পাস করেন। উচ্চ মাধ্যমিক পাস করেন সরকারি বদরুননেসা কলেজ থেকে এবং ১৯৬৮ সালে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে সমাজবিজ্ঞানে বি.এ. (অনার্স) এবং ১৯৭০ সালে ২য় শ্রেণীতে প্রথম হয়ে এম.এ. পাস করেন। এর আগে ১৯৬৯ খ্রিষ্টাব্দে প্রখ্যাত গীতিকার, সুরকার, শিল্পী ও অভিনেতা খান আতাউর রহমানের সঙ্গে তাঁর বিবাহ হয়। তাদের একমাত্র পুত্র আগুন বর্তমান প্রজন্মের একজন প্রতিষ্ঠিত কণ্ঠশিল্পী ৷ 


কর্মজীবনে নিলুফার ইয়াসমিন বাংলাদেশ বেতারের ছোটদের অনুষ্ঠান খেলাঘরের মাধ্যমে শিল্পী জীবন শুরু করেন। পরবর্তীতে বাংলাদেশ টেলিভিশনের শুরু থেকে আর্মত্যু একজন নিয়মিত শিল্পী হিসেবে গান গেয়েছেন। নিলুফার ইয়াসমিন উচ্চাঙ্গ, নজরুল, অতুলপ্রসাদ, দ্বিজেন্দ্রলাল, রজনীকান্ত, টপ্পা, ঠুমরি, কীর্তন, রাগপ্রধান, আধুনিক গানসহ গানের ভুবনের প্রায় সবগুলো শাখাতেই অবাধ বিচরণ করেছেন। রাগ প্রধান গানে অসাধারণ দখল থাকলেও তিনি নজরুল-সংগীতশিল্পী হিসেবেই বেশি পরিচিত। শুভদা, অরুণ-বরুন-কিরণমালা, জোয়ার ভাটা, আবার তোরা মানুষ হ, সুজন সখী , যে আগুনে পুড়ি, জীবন-তৃষ্ণা , জলছবি ইত্যাদি ছায়া ছবির প্লেব্যাকে কণ্ঠ দিয়েছেন নিলুফার ইয়াসমিন। আগুন জ্বলেরে, জীবন সেতো পদ্ম পাতার শিশির বিন্দু, তোমাকে পাবার আগে, এক বরষার বৃষ্টিতে ভিজে, এতো সুখ সইবো কেমন করে, পথের শেষে অবশেষে বন্ধু তুমি, যদি আপনার লয়ে এ মাধুরী, এতো কান্নাই লিখা ছিলো ভাগ্যে আমার, যে মায়েরে মা বলে কেউ ডাকে না, প্রতিদিন সন্ধ্যায়, মাগো আমার যে ভাই, নীল পাখিওরে, এখনো কেন কাঁদিস ও পাখি, ফুলে মধূ থাকবেই, দিওনা দিওনা ফেলে দিওনা প্রভৃতি তার কণ্ঠে গীত বিখ্যাত গান। নিলুফার ইয়াসমিন ‘সুজন সুখী” চলচ্চিত্রে কন্ঠপ্রদানের জন্য ১৯৭৫ সালে বাংলাদেশ চলচ্চিত্র সাংবাদিক সংস্থার পুরস্কার, ‘শুভদা’ চলচ্চিত্রে কন্ঠপ্রদানের জন্য ১৯৮৬ সালে জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কার ও বাংলাদেশ চলচ্চিত্র সাংবাদিক সংস্থার পুরস্কার, সংগীত বিষয়ে অনন্য অবদানের জন্য ২০০৪ সালে মরণোত্তর রাষ্ট্রীয় “একুশে পদক” এবং নজরুল সংগীতে তাঁর অবদানের জন্য ১৪১০ বাংলা সালে “নজরুল পদক” সহ অসংখ্য পুরস্কার ও সম্মাননা অর্জন করেছেন। ১৯৯৫ সাল থেকে তিনি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের নাট্যকলা ও সংগীত বিভাগের নজরুল সংগীত বিষয়ের প্রভাষক হিসেবে মৃত্যুর শেষ দিন পর্যন্ত নিয়োজিত ছিলেন। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের নাট্যকলা ও সংগীত বিভাগে নজরুল সংগীতে তাঁর অবদানের কথা চিরস্বরণীয় করে রাখতে তাঁর নামে নাট্যকলা ও সংগীত বিভাগে পাঠাগার স্থাপন করা হয়েছে। 


শিল্পী হিসেবে নীলুফার ইয়াসমীনের জনপ্রিয়তা শুধু দেশের গন্ডিতেই সীমাবদ্ধ ছিল না, বিদেশেও ছিল ব্যাপক পরিচিতি।১৯৮৪ সালে কলকাতার ‘অগ্নিবীণা’-র আমন্ত্রণে ঢাকাস্থ নজরুল একাডেমীর সাংস্কৃতিক দলের সংগে কলকাতা এবং বঙ্গ সংস্কৃতি সম্মেলনের আমন্ত্রণে দিল্লি ও কলকাতায় সংগীত পরিবেশন করেন। এ-ছাড়াও তিনি পরবর্তীতে যুক্তরাষ্ট্র, যুক্তরাজ্য, জাপান, ফ্রান্স, পাকিস্তান ভ্রমণ করেন এবং সংগীত পরিবেশন করে প্রচুর প্রশংসা অর্জন করেন৷অসাধারণ সংগীত-প্রতিভার অধিকারী নীলুফার ইয়াসমীনের তুলনা শুধুই নীলুফার ইয়াসমীন। ২০০১ সালের মাঝামাঝি সময়ে নিলুফার ইয়াসমিনের টিউমার ধরা পড়ে। অপারেশনের পর তিনি আবার ফিরে এসেছিলেন সঙ্গীত ভুবনে। কিন্তু নিয়তির অমোঘ নিয়মে ২০০৩ সালের ১০ই মার্চ ঢাকাস্থ বারডেম হাসপাতালে মাত্র ৫৫ বছর বয়সে মৃত্যুবরণ করেন বাংলা গানের মহান এই শিল্পী। বিনয়ী, নম্র, মিষ্টভাষিনী, নিরহংকার নীলুফারের মতো ব্যতিক্রমধর্মী শিল্পী বাংলা গানে খুঁজে পাওয়া দুষ্কর। শুধু নজরুল সংগীতই নয়, বৈচিত্র্যে পরিপূর্ণ বাংলা গানের বিভিন্ন ধারায় নীলুফারের সাবলীল বিচরণ ছিল সত্যিই বিস্ময়কর। তাঁর অকাল মৃত্যুতে বাংলা গান হারিয়েছে তাঁর একজন একনিষ্ঠ সাধককে। তবে তার সুরের ইন্দ্রজালে শ্রোতাদের মাঝে তিনি স্মরণে থাকবেন চিরদিন। আজ এই বরণ্যে গুণী শিল্পীর ১৪তম মৃত্যুবার্ষিকী। বাংলা গানের বরেণ্য শিল্পী নিলুফার ইয়াসমিনের মৃত্যুবার্ষিকীতে শ্রদ্ধাঞ্জলি।


আর্ন্তজাতিক নারী দিবসে বাংলাদেশসহ পৃথিবীর সকল নারীদের প্রতি আমাদের গভীর শ্রদ্ধা, শুভেচ্ছা ও ভালোবাসা

স্টুডেন্টস ইউনিটি অব সাতলা (সাস) এর নতুন কমিটি গঠন


পাঠকের মন্তব্য

(মতামতের জন্যে সম্পাদক দায়ী নয়।)
বিশ্বের ক্ষমতাধর নারীর তালিকায় হাসিনার অবস্থানের উন্নতি
বিশ্বব্যাপী শ্রমজীবী মেহনতি মানুষের সংহতি প্রকাশের দিনঃ আন্তর্জাতিক শ্রমিক তথা ঐতিহাসিক মে দিবস আজ
বিশ্বখ্যাত ফরাসী লেখক ও সাংবাদিক এমিল জোলার ১৭৭তম জন্মদিন আজ
আমেরিকাকে একঘরে করে ফেলতে যাচ্ছেন ট্রাম্প
২৬ মার্চ মহান স্বাধীনতা ও জাতীয় দিবসে মুক্তিযুদ্ধে জীবন উৎসর্গকারী সকল শহীদদের স্মরন করছি গভীর শ্রদ্ধায়
১৯৭১ সালের ভয়াল ২৫ মার্চ কালো রাতের গণ হত্যা দিবস আজঃ চাই গণহত্যার আন্তর্জাতিক স্বীকৃতি
স্বাধীনতা যুদ্ধের অকুতভয় বীর সেনানী ৭নং সেক্টর কমাণ্ডার কর্নেল (অব.) কাজী নূরুজ্জামান, বীর উত্তম এর ৯২তম জন্মবার্ষিকী আজ
‘পানির জন্য প্রকৃতি’ প্রতিপাদ্য নিয়ে আজ পালিত হচ্ছে বিশ্ব পানি দিবস
কিংবদন্তি সানাই বাদক ওস্তাদ বিসমিল্লাহ খানের ১০১ জন্মবার্ষিকী আজ
‘৭১এ পাকিদের বিরুদ্ধে স্বাধীনতাযুদ্ধে অংশ গ্রহণকারী সবাই মুক্তিযোদ্ধা তবে সব মুক্তিযোদ্ধা দেশপ্রেমিক নয়