শিরোনাম: 
●   স্বাধীনতার পক্ষে ভোট দিতে বললেন- আবুল হাসানাত আবদুল্লাহ ●   ‘মাত্র এক দিন, আর পারছি না!’ ●   চুল পড়া রোধে চার খাবার ●   বিশ্বের ক্ষমতাধর নারীর তালিকায় হাসিনার অবস্থানের উন্নতি ●   সাতলা কচা নদীতে অনুষ্ঠিত হলো নৌকা বাইচ ●   উজিরপুর বিভিন্ন পূজা মন্ডব পরিদর্শন করেন এডভোকেট তালুকদার মু. ইউনুস এমপি ●   বরিশালে ক্যাপ্টেন মোয়াজ্জেমের বিরুদ্ধে ভূমিদস্যুতার অভিযোগ ●   বিশ্বব্যাপী শ্রমজীবী মেহনতি মানুষের সংহতি প্রকাশের দিনঃ আন্তর্জাতিক শ্রমিক তথা ঐতিহাসিক মে দিবস আজ ●   সাতলায় বাড়ির ছাদ থেকে সায়েম নামে এক শিশুর লাশ উদ্ধার ●   সৌদি-কাতার সীমান্তে একটি সামুদ্রিক চ্যানেল নির্মাণ নিয়ে দন্ধ
ঢাকা, সোমবার, ১৭ ডিসেম্বর ২০১৮, ৩ পৌষ ১৪২৫
NEWS CHANNEL
প্রচ্ছদ » আলোচিত সংবাদ » টিজিটাল নিরাপত্তা আইনঃ বিপদে পড়বেন সাংবাদিকরা আশঙ্কা বিশিষ্ট জনের
রবিবার ● ৪ ফেব্রুয়ারী ২০১৮, ০৬:০২ মিনিট
Email this News Print Friendly Version

টিজিটাল নিরাপত্তা আইনঃ বিপদে পড়বেন সাংবাদিকরা আশঙ্কা বিশিষ্ট জনের

---

ঢাকা, ৪ ফেব্রুয়ারি ২০১৮, রবিবারঃ প্রস্তাবিত ডিজিটাল নিরাপত্তা আইন-২০১৮ নিয়ে তীব্র প্রতিক্রিয়া জানিয়েছে বামদলগুলো। দুর্নীতিবিরোধী সংগঠন ট্রান্সপারেন্সি ইন্টারন্যাশনাল বাংলাদেশ টিআইবি’র পক্ষ থেকেও এ আইন নিয়ে কড়া প্রতিক্রিয়া এসেছে। ডিজিটাল নিরাপত্তা আইনের খসড়া আইসিটি আইনের চেয়েও ভয়াবহ। কেননা যেসব কাজের কারণে ৫৭ ধারায় অভিযুক্ত করা যেত, সেসব কাজকে এই আইনে সম্প্রসারিত করা হয়েছে। ডিজিটাল নিরাপত্তা আইনে ১৯টি ধারার কথা বলা হয়েছে। এর মধ্যে মাত্র চারটি আইন জামিনযোগ্য, বাকি সব জামিন অযোগ্য। বিশেষ করে সাংবাদিকরা যেসব ধারায় বিপদে পড়তে পারেন এ রকম সব ধারা জামিন অযোগ্য। এই আইন ভয়াবহ ও অনিরাপদ বলে মন্তব্য করেছেন বিশিষ্টজনরা।প্রস্তাবিত আইনে তদন্ত কর্মকর্তাকে বিনা পরোয়ানায় তল্লাশি এবং গ্রেপ্তারের ক্ষমতা প্রদানের ফলে আইনটি ব্যাপকভাবে অপব্যবহৃত হতে পারে বলে আশঙ্কা প্রকাশ করা হয় বিবৃতিতে। প্রস্তাবিত ডিজিটাল নিরাপত্তা আইনের ৩২ ধারাসহ বিতর্কিত ও মানবাধিকারের জন্য ঝুঁকিপূর্ণ সকল ধারা সংশোধনের জন্য সংশ্লিষ্ট বিশেষজ্ঞ, গণমাধ্যমকর্মী ও নেতৃবৃন্দ এবং অন্য সকল অংশীজনের অভিমতের ভিত্তিতে একটি পরিমার্জিত সংস্করণ প্রণয়নের আহ্বান জানিয়েছে টিআইবি।

ডিজিটাল নিরাপত্তা আইনের ধারায় কোনো ব্যক্তি যদি ইলেকট্রনিক মাধ্যমে বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধ বা মুক্তিযুদ্ধের চেতনা বা আদালত কর্তৃক মীমাংসিত মু্ক্তিযুদ্ধের বিষয়াবলী বা জাতির পিতার বিরুদ্ধে প্রপাগান্ডা, প্রচারণা বা তাতে মদদ দেয়, তাহলে তার শাস্তি যাবজ্জীবন কারাদণ্ড অথবা অনধিক এক কোটি টাকা অর্থদণ্ড অথবা তিনি উভয় দণ্ডে দণ্ডিত হতে পারেন। এ রকম বিধান রেখে প্রণয়ন করা হচ্ছে ডিজিটাল নিরাপত্তা আইন।

আইনের যে খসড়া তৈরি করা হয়েছে, তার ১৯ ধারায় বলা হয়েছে, কেউ যদি ওয়েবসাইট বা অন্য কোনো ইলেকট্রনিক বিন্যাসে এমন কিছু প্রকাশ বা সম্প্রচার করেন, যা মিথ্যা, অশ্লীল এবং যা মানুষের মনকে বিকৃত ও দূষিত করে, মর্যাদাহানি ঘটায় বা সামাজিকভাব হেয়প্রতিপন্ন করে; অথবা কেউ যদি স্বেচ্ছায় কারো ধর্মীয় অনুভূতিতে আঘাত হানার উদ্দেশে ওয়েবসাইটে বা অন্য কোনো বিন্যাসে এমন কিছু প্রকাশ বা সম্প্রচার করেন যা সংশ্লিষ্ট অবস্থা বিবেচনায় কেউ পাঠ করলে বা দেখলে বা শুনলে তা ধর্মীয় অনুভূতিতে আঘাত করে বা করতে পারে, তাহলে তিনি অনধিক দুই বছরের কারাদণ্ডে দণ্ডিত হবেন অথবা দুই লাখ টাকা জরিমানা অথবা উভয় দণ্ডে দণ্ডিত হতে পারেন।

তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তির আইনের বিতর্কিত ৫৭ ধারার সঙ্গে নতুন আইনের এই ১৯ ধারার বেশ মিল রয়েছে। তবে পার্থক্য হলো, ৫৭ ধারার তুলনায় ১৯ ধারায় শাস্তির পরিমাণ কম। ৫৭ ধারায় কেউ অপরাধ করলে তার অনধিক ১৪ বছর এবং অন্যূন সাত বছর কারাদণ্ডে এবং অনধিক এক কোটি টাকা অর্থদণ্ডের বিধান রয়েছে। পাশাপাশি এটি জামিন অযোগ্য। পক্ষান্তরে নতুন আইনের ১৯ ধারায় কেউ অপরাধ করলেও সেটি জামিনযোগ্য।

নতুন এই ডিজিটাল নিরাপত্তা আইন কার্যকর হওয়ার সাথে সাথে তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি আইনের ৫৪, ৫৫, ৫৬, ৫৭ ধারা রহিত হবে এবং এই ধারাগুলোর অধীনে যেসব পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে, তা নতুন এই আইনের অধীনে নেওয়া হয়েছে বলে গণ্য হবে। অর্থাৎ এটি এখন কিছুটা আশার কথা যে, ৫৭ ধারার ভয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে কেউ কিছু লিখতে গিয়ে যেমন তটস্থ থাকেন, ধারাটি রহিত হলে সেই ভয় অনেকটা কাটবে।

কম্পিউটার হ্যাকিংয়ের বিরুদ্ধেও ব্যবস্থার বিধান থাকছে নতুন আইনে। এর ১৫ ধারায় বলা হয়েছে, বাংলাদেশের অখণ্ডতা, সংহতি, জননিরাপত্তা বা সার্বভৌমত্ব বিপন্ন করার জন্য জনসাধারণ বা জনসাধারণের কোনো অংশের মধ্যে আতঙ্ক সৃষ্টির মাধ্যমে সরকার বা কোনো কোম্পানি বা কোনা ব্যক্তিকে কাজ করতে বা কাজ থেকে বিরত রাখতে বাধ্য করার উদ্দেশে কোনো কম্পিউটার, কম্পিউটার প্রোগ্রাম, কম্পিউটার সিস্টেম বা কম্পিউটার নেটওয়ার্ক বা ডিভাইস, ডিজিটাল সিস্টেম বা ডিজিটাল নেটওয়ার্কে প্রবেশাধিকার ব্যাহত করে, তাহলে তিনি ডিজিটাল সন্ত্রাসী কাজের জন্য অপরাধী হবেন। আর এই অপরাধে তিনি অনধিক ১৪ বছর কারাদণ্ড অথবা অনধিক এক কোটি টাকা অর্থদণ্ড অথবা উভয় দণ্ডে দণ্ডিত হতে পারেন।

নতুন এই আইনের খসড়ায় বলা হয়েছে, কোনো ব্যক্তি যদি অসৎ উদ্দেশে ইচ্ছেকৃতভাবে বা জ্ঞাতসারে অন্য কোনো ব্যক্তির অনুমতি ছাড়া তার ব্যক্তিগত ছবি তোলে এবং প্রকাশ করে বা বিকৃত করে বা ধারণ করে তাহলে এটি ব্যক্তিগত গোপনীয়তা লঙ্ঘনের ক্ষেত্রে অপরাধ বলে বিবেচিত হবে; যার শাস্তি সর্বোচ্চ পাঁচ বছর কারাদণ্ড।

তবে কারো ব্যক্তিগত ফোন কল প্রকাশ করলে সেটি অপরাধ হবে কি না, তা এই আইনে বলা নেই।

ইন্টারনেটে পর্নোগ্রাফি ও শিশু পর্নোগ্রাফি প্রতিরোধেও কঠোর বিধান থাকছে নতুন ডিজিটাল নিরাপত্তা আইনে। শিশু পর্নোগ্রাফির অপরাধে অনধিক সাত বছর কারাদণ্ড বা পাঁচ লাখ টাকা জরিমানা বা উভয় দণ্ডের বিধান রয়েছে।

তথ্যপ্রযুক্তি আইনের আলোকে নতুন এ আইনেও একটি সাইবার ট্রাইব্যুনাল গঠনের বিধান রাখা হয়েছে। সেই ক্ষেত্রে ধরে নেওয়া সঙ্গত যে, ডিজিটাল নিরাপত্তা আইন পাস হলেও ২০০৬ সালের তথ্যপ্রযুক্তি আইনও বহাল থাকবে।

জাতীয় ডিজিটাল নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি বিভাগের অধীনে একটি ডিজিটাল নিরাপত্তা এজেন্সি গঠনেরও বিধান রাখা হয়েছে নতুন আইনে। আর এ কর্তৃপক্ষ পরিচালনার জন্য একজন মহাপরিচালক, প্রয়োজনীয় সংখ্যক অতিরিক্ত মহাপরিচালক, পরিচালক, উপপরিচালক এবং সহকারী পরিচালকসহ অন্যান্য কর্মকর্তা নিয়োগ করা হবে।

তা ছাড়া মহাপরিচালকের নিয়ন্ত্রণে এক বা একাধিক ডিজিটাল ফরেনসিক ল্যাব স্থাপনের কথাও বলা হয়েছে; যেখানে প্রয়োজনীয় সংখ্যক উপযুক্ত কারিগরি জ্ঞানসম্পন্ন জনবল থাকবে।

ডিজিটাল নিরাপত্তা এজেন্সির অধীনে বাংলাদেশ সাইবার ইমার্জেন্সি বা ইনসিডেন্ট রেসপন্স টিম নামে একটি প্রধান টিম থাকবে। সাইবার নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে সরকারি প্রতিষ্ঠানগুলোর জন্য মন্ত্রণালয় বা সেক্টরভিত্তিক একাধিক টিম থাকতে পারবে।

ডিজিটাল নিরাপত্তার সার্বিক বিষয় নিয়ে আলোচনা এবং ডিজিটাল নিরাপত্তার বিষয়ে জাতীয় ‍গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত নিতে একটি ডিজিটাল নিরাপত্তা কাউন্সিল গঠনেরও বিধান রাখা হয়েছে, যারা দেশের জাতীয় নিরাপত্তা বা নাগরিকের অর্থনৈতিক ও সামাজিক কল্যাণে নিয়োজিত নির্দিষ্ট কিছু কম্পিউটার সিস্টেম, নেটওয়ার্ক বা তথ্য পরিকাঠামোগুলোকে অত্যাবশকীয় তথ্য পরিকাঠামো হিসেবে ঘোষণা করতে পারবে।

নতুন এ আইনে ‘সন্ত্রাসী সম্পদ’ বলে একটি টার্ম রয়েছে, যেখানে বলা হয়েছে কোনো সম্পদ যা সম্পূর্ণরূপে প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষভাবে সন্ত্রাসী কাজে ব্যবহৃত হতে পারে বা হয়েছে বা ব্যবহারের মাধ্যমে প্রাপ্ত এবং বাংলাদেশ বা কোনো বিদেশি রাষ্ট্র কর্তৃক সন্ত্রাসী হিসেবে চিহ্নিত কোনা ব্যক্তি, কোম্পানি বা স্বত্বার সম্পদকে বুঝাবে। এ ক্ষেত্রে জঙ্গিবাদে অর্থায়নের অভিযোগে যেসব ব্যাংক ও প্রতিষ্ঠানের প্রতি সরকারের কর্তা ব্যক্তিরা নানা সময়ে ইঙ্গিত করেছেন, সেসব প্রতিষ্ঠানও এ আইনের অধীনে শাস্তির আওতায় আসতে পারে বলে ধারণা করা যায়।

একটি ধারায় বলা হয়েছে, কেউ যদি এমন কিছু প্রকাশ করেন যা দেখলে বা শুনলে নাগরিকদের বিভিন্ন শ্রেণির মধ্যে শত্রুতা বা ঘৃণার উদ্রেক হতে পারে, তাহলে এই অপরাধে তাকে সাত বছর কারাদণ্ড অথবা সাত লাখ টাকা জরিমানা অথবা  উভয় দণ্ড দেওয়া হতে পারে। এখন প্রশ্ন উঠতে পারে, সম্প্রতি দুজন সরকারি কর্মকর্তাকে নির্যাতনের অভিযোগে পুলিশ বাহিনী সম্পর্কে ফেসবুকে অনেকেই এমন কিছু লিখেছেন, যা এই বাহিনীটির সম্পর্কে ঘৃণা তৈরি করেছে। সুতরাং এই আইনের বলে পুলিশ বাহিনী সস্পর্কে ওই সব লেখালেখির কারণে কি কাউকে শাস্তি দেওয়া যাবে?

৪৪টি ধারা সংবলিত নতুন এই আইনে এ রকম আরো বেশ কিছু বিধান রাখা হচ্ছে, যেগুলো নিয়ে নানা প্রশ্ন করার সুযোগ রয়েছে। বিশেষ করে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সরল বিশ্বাসে কৃতকর্মের নামে যে ক্ষমতা দেওয়া হচ্ছে, সেটি নিয়েও প্রশ্ন করার যথেষ্ট সুযোগ রয়েছে। ফলে সরকারের উচিত হবে, আইনটি কেবিনেটে তোলার আগে এটির খসড়া নাগরিকদের মতামতের জন্য যোগাযোগ ও তথ্যপ্রযুক্তি মন্ত্রণালয়ের ওয়েবসাইটে প্রকাশ করা। এ ক্ষেত্রে একটি নির্ধারিত সময় বেঁধে দিতে হবে যাতে ওই সময়ের মধ্যে নাগরিকরা আইনটি সম্পর্কে তাদের মতামত দিতে পারে। এরপর সেখানে প্রয়োজনীয় সংশোধন, সংযোজন-বিয়োজন করে কেবিনেটে তোলা হলে এটি নিয়ে পরবর্তী সময়ে অনেক বিতর্ক এড়ানো যাবে।

সবশেষ কথা হচ্ছে, আইনের ধারা যত কঠোর বা কোমল হোক না কেন, সেটির প্রয়োগ নির্ভর করে সরকারের ইনটেনশন বা ইচ্ছের ওপর। খুব দুর্বল ধারা দিয়েও সরকার চাইলে যে কাউকে ফাঁসাতে পারে। যেমন তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি আইনের ৫৭ ধারার অতিপ্রয়োগ আমরা দেখেছি। আবার খুব কঠোর কোনো ধারাও অকার্যকর হয়ে যেতে পারে যদি সর‌কার সেটি প্রয়োগ করতে না চায়।

ফলে ডিজিটাল নিরাপত্তা আইনের লক্ষ্য যদি হয় প্রকৃত প্রস্তাবেই সাইবার নিরাপত্তা বিধান এবং সেই সাথে অন্যের ধর্মীয় অনুভূতিতে আঘাত হানার মতো কার্যক্রম প্রতিরোধ করা, তাহলে এ নিয়ে খুব বেশি বিতর্ক হবে না। কিন্তু যদি এ আইনের অন্যতম উদ্দেশ্য হয় বাকস্বাধীনতা হরণ বা ভিন্ন মত দমন, তখন আইনের ব্যাখ্যা নিজেদের মতো দিয়ে সহজ-সরল বিষয়কেও জটিল করে তুলতে পারবে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী। পুরোটাই নির্ভর করবে আইনটি যারা প্রয়োগ করবে, তাদের ওপর। তবে আমাদের আশা করতে দোষ নেই, ডিজিটাল নিরাপত্তা আইনের কোনো ধারা নিয়ে ৫৭ ধারার মতো আতঙ্ক তৈরি হবে না।

গতকাল শনিবার বিকালে জাতীয় প্রেস ক্লাবের ভিআইপি লাউঞ্জে নাগরিক ঐক্য আয়োজিত ‘ডিজিটাল নিরাপত্তা আইন-২০১৮’ শীর্ষক আলোচনায় বক্তারা এসব কথা বলেন। এতে উপস্থিত ছিলেন নাগরিক ঐক্যের আহ্বায়ক মাহমুদুর রহমান মান্না, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের আইন বিভাগের অধ্যাপক ড. আসিফ নজরুল, সংবিধান বিশেষজ্ঞ ড. শাহদীন মালিক, গণস্বাস্থ্য কেন্দ্রের প্রতিষ্ঠাতা ডা. জাফরুল্লাহ চৌধুরী প্রমুখ।

আলোচনা সভায় ডা. জাফরুল্লাহ চৌধুরী বলেন, আগে তো এই আইনে মামলা করতে মন্ত্রণালয়ের অনুমতির প্রয়োজন ছিল কিন্তু এখন পুলিশ চাইলে মামলা করতে পারবে। পুলিশ চাইলে বিনা মামলায় বিনা ওয়ারেন্টে যে কাউকে গ্রেফতার করতে পারবে। এটা শুধু কালো আইন নয়, বরং কুচকুচে কালো আইনের চেয়েও কালো।

সংবিধান বিশেষজ্ঞ ড. শাহদীন মালিক বলেন, মিয়ানমারে গত শতাব্দীর ৬০-এর দশক থেকে ২০১৬ সাল পর্যন্ত কোনো পত্রিকা প্রকাশ হতো না। সেখানে বাকস্বাধীনতা এতটা সীমিত। তারা যে কতটা অত্যাচারী তা আমরা এখন দেখতে পাচ্ছি।

ড. আসিফ নজরুল বলেন, এই আইনের বিরুদ্ধে হাইকোর্টে রিট হয়েছিল। সে রিটে আদালত রুলও জারি করেছিলেন। তখন আইনমন্ত্রী বলেছিলেন, এই আইনের অপব্যবহার করা হচ্ছে। পরে এই আইনের নাম পরিবর্তন করে নতুন নাম দেয়া হয়। সংশোধনীর মাধ্যমে এই আইন আরও ভয়াবহ করা হচ্ছে। এই আইনের আসল উদ্দেশ্য হল বিনা বিচারে সাধারণ মানুষ ও সাংবাদিকদের কারাগারে রাখা।

লিখিত বক্তব্যে মাহমুদুর রহমান মান্না বলেন, ডিজিটাল নিরাপত্তা আইন ৫২ ধারা থেকেও এটি ভয়াবহ ও অনিরাপদ। তিনি বলেন, আইনের সমালোচনায় অনেক সময় সরকারের প্রতি সহানুভূতিসম্পন্ন অনেক বুদ্ধিজীবীকে বলতে শুনেছি, এই ধারার অস্পষ্টতার সুযোগ নিয়ে নাকি সেটার অপব্যবহার হতে পারে। ৫৭ ধারা দিয়ে করা কয়েকটি নিপীড়নের ঘটনার প্রতি সরকারের মন্ত্রীদের দৃষ্টি আকৃষ্ট হলে তাদেরও বলতে শোনা যায়, তারা এর ‘অপব্যবহার রোধে’ ব্যবস্থা নেবেন। অথচ খুব সাধারণ কাণ্ডজ্ঞান বলে আইনে অপরাধের ব্যাখ্যা অস্পষ্ট রাখা একটা সচেতন পরিকল্পনারই অংশ। এটা করা হয় যেন ইচ্ছামতো যে কাউকে অভিযুক্ত করে হয়রানি করা যায়।

নাগরিক ঐক্যের আহ্বায়ক মান্না আরও বলেন, এবার আইসিটি অ্যাক্টের জায়গায় এসেছে ডিজিটাল নিরাপত্তা আইন। জনগণের মৌলিক অধিকারের পরিপন্থী ও হয়রানিমূলক কোনো আইনই কাম্য হতে পারে না। রাষ্ট্রকে বাকস্বাধীনতার পক্ষে সুস্পষ্ট অবস্থান নিতে হবে।

সম্পাদনাঃ নূর মোহাম্মাদ নূরু


বাংলা ভাষায় বিজ্ঞানচর্চার পথিকৃৎ, বিশ্ববিখ্যাত পদার্থবিজ্ঞানী সত্যেন্দ্রনাথ বসুর ৪৩তম মৃত্যুবার্ষিকী আজ

দেশপ্রেমী ভারতীয় বাঙালি কবি করুণানিধান বন্দ্যোপাধ্যায়ের ৬২তম মৃত্যুবার্ষিকী আজ


পাঠকের মন্তব্য

(মতামতের জন্যে সম্পাদক দায়ী নয়।)
বিশ্বের ক্ষমতাধর নারীর তালিকায় হাসিনার অবস্থানের উন্নতি
বিশ্বব্যাপী শ্রমজীবী মেহনতি মানুষের সংহতি প্রকাশের দিনঃ আন্তর্জাতিক শ্রমিক তথা ঐতিহাসিক মে দিবস আজ
বিশ্বখ্যাত ফরাসী লেখক ও সাংবাদিক এমিল জোলার ১৭৭তম জন্মদিন আজ
আমেরিকাকে একঘরে করে ফেলতে যাচ্ছেন ট্রাম্প
২৬ মার্চ মহান স্বাধীনতা ও জাতীয় দিবসে মুক্তিযুদ্ধে জীবন উৎসর্গকারী সকল শহীদদের স্মরন করছি গভীর শ্রদ্ধায়
১৯৭১ সালের ভয়াল ২৫ মার্চ কালো রাতের গণ হত্যা দিবস আজঃ চাই গণহত্যার আন্তর্জাতিক স্বীকৃতি
স্বাধীনতা যুদ্ধের অকুতভয় বীর সেনানী ৭নং সেক্টর কমাণ্ডার কর্নেল (অব.) কাজী নূরুজ্জামান, বীর উত্তম এর ৯২তম জন্মবার্ষিকী আজ
‘পানির জন্য প্রকৃতি’ প্রতিপাদ্য নিয়ে আজ পালিত হচ্ছে বিশ্ব পানি দিবস
কিংবদন্তি সানাই বাদক ওস্তাদ বিসমিল্লাহ খানের ১০১ জন্মবার্ষিকী আজ
‘৭১এ পাকিদের বিরুদ্ধে স্বাধীনতাযুদ্ধে অংশ গ্রহণকারী সবাই মুক্তিযোদ্ধা তবে সব মুক্তিযোদ্ধা দেশপ্রেমিক নয়