শিরোনাম: 
●   স্বাধীনতার পক্ষে ভোট দিতে বললেন- আবুল হাসানাত আবদুল্লাহ ●   ‘মাত্র এক দিন, আর পারছি না!’ ●   চুল পড়া রোধে চার খাবার ●   বিশ্বের ক্ষমতাধর নারীর তালিকায় হাসিনার অবস্থানের উন্নতি ●   সাতলা কচা নদীতে অনুষ্ঠিত হলো নৌকা বাইচ ●   উজিরপুর বিভিন্ন পূজা মন্ডব পরিদর্শন করেন এডভোকেট তালুকদার মু. ইউনুস এমপি ●   বরিশালে ক্যাপ্টেন মোয়াজ্জেমের বিরুদ্ধে ভূমিদস্যুতার অভিযোগ ●   বিশ্বব্যাপী শ্রমজীবী মেহনতি মানুষের সংহতি প্রকাশের দিনঃ আন্তর্জাতিক শ্রমিক তথা ঐতিহাসিক মে দিবস আজ ●   সাতলায় বাড়ির ছাদ থেকে সায়েম নামে এক শিশুর লাশ উদ্ধার ●   সৌদি-কাতার সীমান্তে একটি সামুদ্রিক চ্যানেল নির্মাণ নিয়ে দন্ধ
ঢাকা, সোমবার, ১৭ ডিসেম্বর ২০১৮, ৩ পৌষ ১৪২৫
NEWS CHANNEL
প্রচ্ছদ » আর্ন্তজাতিক » চীন-ভারত যুদ্ধের সম্ভাবনা কতটুকু, চীনের সাথে যুদ্ধে জড়ালে কত দিন টিকে থাকবে ভারত?
বুধবার ● ১৯ জুলাই ২০১৭, ০৯:০৭ মিনিট
Email this News Print Friendly Version

চীন-ভারত যুদ্ধের সম্ভাবনা কতটুকু, চীনের সাথে যুদ্ধে জড়ালে কত দিন টিকে থাকবে ভারত?

 ------

ঢাকাঃ ১৯ জুলাই ২০১৭ বুধবারঃ আন্তর্জাতক ডেস্কঃ সীমান্ত নিয়ে এক মাস ধরে ভারত ও চীনের মধ্য উত্তেজনা চলছে। এ প্রেক্ষিতে চীন-ভারত যুদ্ধের সম্ভাবনা কতটুকু? আর চীনের সাথে যুদ্ধে জড়ালে কত দিন টিকে থাকবে ভারত? এ নিয়ে নানা আলোচনা বিতর্ক চলছে আন্তর্জাতিক পরিমণ্ডলে। অপর দিকে চীন সাগরের নিয়ন্ত্রণ নিয়ে দ্বন্ধ চলছে প্রতিবেশীদের । সম্প্রতি দক্ষিণ চীন সাগরের মালিকানা নিয়ে ফিলিপাইন হেগের কোর্ট অব আর্বিট্রেশন থেকে নিজেদের পক্ষে রায় পায়। চীন ওই মামলার নিজেদের কোনো প্রতিনিধি পাঠায়নি। কারণ চীন এসব আন্তর্জাতিক আদালতের অস্তিত্বই মানে না। দক্ষিণ চীন সাগরের পুরোটা দাবি করে চীন। প্রতিবেশী দেশগুলোর কোনও দাবিই মানতেই চায় না চীন। অর্থনৈতিক ও সামরিক দিক দিয়ে সুপার পাওয়ার হওয়ার কারণে চীনের অন্যের দাবিকে ধরাকে সরা জ্ঞান মনে করে। সাগরে ক্ষুদ্র প্রতিবেশীগুলোর যে ন্যায্য অধিকার আছে তা মানতেই চায়না চীন। আন্তর্জাতিক সম্প্রদায় চীনকে বঙ্গোপসাগর নিয়ে ভারত-বাংলাদেশের মধ্য হওয়া চুক্তির দৃষ্টান্ত অনুসরণ করতে বলে।
দক্ষিণ চীন সাগর নিয়ে বিতর্কের সূত্রপাত হয় কয়েক বছর আগে ভারতের একটি তেল গ্যাস উত্তোলন কোম্পানিকে নিয়ে। ওই কোম্পানি ভিয়েতনামের ডাকে তাদের দক্ষিণ চীন সাগর উপকূলে খনিজ সম্পদের অনুসন্ধানে রিগ স্থাপন করে। বেশ কয়েকটি চুক্তিও করে ভিয়েতনামের সঙ্গে ওই কোম্পানি। কিন্তু চীনের অব্যাহত বাধার কারণে সমুদ্রে কাজ অসমাপ্ত রেখে চলে যেতে হয় ভারতীয় ওই কোম্পানির। এসব নিয়ে ভিয়েতনামে চীন বিরোধী বিক্ষোভও হয়। ভিয়েতনাম সমাজতান্ত্রিক দেশ। তাই চীনের সঙ্গে তার আছে একটি অতীত বন্ধুত্ব। কিন্তু সেটি তো আর নিজের রাষ্ট্রীয় স্বার্থকে জলাঞ্জলি দিয়ে নয়।
এ কারণে ভিয়েতনাম চীনের যেকোনো আগ্রাসন মোকাবেলার জন্য ভারতের সঙ্গে বেশ কয়েকটি সামরিক চুক্তি করে অথনৈতিক চুক্তির পাশাপাশি । এই চুক্তির ফলে ভারত ভিয়েতনামকে বেশ কয়েকটি অত্যাধুনি ব্রামোস ক্রুজ মিসাইল দেয় যা চীনের যেকোনো হামলা প্রতিরোধে সক্ষম। ভিয়েতনাম ভারতের এসব শক্তিশালী ক্ষেপণাস্ত্র তার দ্বীপগুলোতে গোপনে মোতায়েন করেছে। বিষয়টি ভালো ভাবে নেয়নি চীন। তারা এর প্রতিবাদ করে।
এদিকে চীন ভারতকে খোঁচা দিতে পাকিস্তানের সঙ্গে একটি অর্থনৈতিক করিডোর চুক্তি করে। এই চুক্তির মাধ্যমে চীন পাকিস্তান নিয়ন্ত্রিত কাশ্মীর দিয়ে একটি সড়ক নির্মাণের প্রস্তাব করেছে। যেই সড়ক পাকিস্তানের ভেতর দিয়ে করাচীর গোয়াধর বন্দর পর্যন্ত যাবে। একে সিপ্যাক নাম দিয়েছে দুই দেশ। এর পুরো নাম হচ্ছে চায়না পাকিস্তান ইকনোমিক করিডোর। সিপ্যাক চুক্তির পরই ভারত চীনকে জানিয়ে দিয়েছিল যে বিতর্কিত জায়গায় চীন যেন কোনও প্রকল্প গ্রহণ না করে। কারণ পাকিস্তান নিয়ন্ত্রিত কাশ্মীরের কোনও আন্তর্জাতিক স্বীকৃতি নেই। কিন্তু ভারতের বাধা উপেক্ষা করে এই কাজ দ্রুত এগিয়ে চলছে। চীন নিয়ে ভারতের এই অস্বস্তির কারণেই ভারত সম্প্রতি যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে একটি সামরিক চুক্তি করে যেখানে বলা হয় উভয় দেশ তাদের নিজ নিজ সামরিক ঘাটি ব্যবহার করতে পারবে। এতে বিমান, নৌ, সেনা সব ঘাটির কথা উল্লেখ করা হয়।
দক্ষিণ চীন সাগর ও সিপ্যাক এই দুই কারণে ভারত যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে এমন ধরনরে চুক্তি করেছে বলে মনে করছে আন্তর্জাতিক মহল। এই চুক্তির পরই ভারত চীনের সীমান্ত লাগোয় অরুণাচল ও কাশ্মীর সীমান্তে শক্তিশালী ব্রামোস ক্রুজ মিসাইল মোতায়েন করেছে। এরপর চীন সীমান্তে শুরু হয়েছে যুক্তরাষ্ট্র ও ভারতের সামরিক মহড়া। এসব দেখে আশংকা করা হচ্ছে বড় ধরনের সামরিক সংঘাত শুরু হয়ে যেতে পারে এই অঞ্চলে। যা উপমহাদেশের মানচিত্র বদলিয়ে দিতে পারে। ভারত যে যুদ্ধের প্রস্তুতি নিচ্ছে তা পরিষ্কার। কিন্তু এই যুদ্ধ শেষ মেষ হবে কিনা তা নিয়ে সন্দিহান অনেকে।
প্রশ্ন হচ্ছে চীন-ভারত এই যুদ্ধে কে কার পক্ষে দাঁড়াবে। দক্ষিণ চীন সাগরের মালিকানা প্রশ্নে ভিয়েতনাম, জাপান, দক্ষিণ কোরিয়া, তাইওয়ান, ফিলিপাইন, ইন্দোনেশিয়া, মালয়েশিয়া, ব্রুনাই চীনের বিরোধিতা করবে। তবে জাপান ও ভিয়েতনাম সরাসরি চীন বিরোধী জোটে যোগ দেবে। জাপান কোনও মতেই দক্ষিণ চীন সাগরে চীনের একচ্ছত্র আধিপত্য মেনে নেবে না। এ কারণে চীন বিতর্কিত স্পার্টলি দ্বীপে যত সামরিক যান প্রেরণ কের ততবারই মার্কিন জঙ্গি বিমানগুলো এর ওপর দিয়ে উড়ে গিয়ে চীনকে পরোক্ষ চ্যালেঞ্জ জানায়। চীন আজ পর্যন্ত একটি বিমানকে আকাশ সীমানা লঙ্ঘনের অভিযোগে গুলি করে ভূপাতিত করতে পারে নি। অথচ তার ক্ষমতা ছিল এসব করার। চীন যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে যুদ্ধে জড়াতে চাচ্ছে না। এটা এসব ঘটনা থেকেই পরিষ্কার।
তাছাড়া দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের পর জাপান নিজস্ব সেনাবাহিনী গঠন না করার সিদ্ধান্ত নিয়েছিল। সেই আইন জাপান ২০১৫ সালে সংশোধন করে ফেলেছে। জাপান এখন সেনাবাহিনী গঠন করতে পারবে। নির্মাণ করতে পারবে মরণঘাতী অস্ত্র। সেনাবাহিনী গঠন করেই জাপান তার উপকূলে ভারত ও যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে বেশ কয়েকটি বড় ধরনের সামরিক মহড়া চালিয়েছে। যা চীনকে দুশ্চিন্তার মধ্যে ফেলে দিয়েছে। এ কারণে দক্ষিণ চীন সাগর নিয়ে চীন মনে হয় না কোনও যুদ্ধ করতে চাইবে। যদি এই যুদ্ধ শুরু হয় তবে জাপানের সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্র ও ভারত এসে পড়বে। যা চীন কখনই চাইবে না। বাকী রইল চীন-পাকিস্তানের সি প্যাক প্রজেক্ট বন্ধ করা। ভারত ইতিমধ্যে বেলুচিস্তান ফ্রন্ট প্রক্সি ওয়ার শুরু করে দিয়েছে। বেলুচিস্তানের ভেতর দিয়ে গেছে সিপ্যাক। এখন বেলুচিস্তান পাকিস্তানের হাত ছাড়া হলে এই সিপ্যাক মাঠে মারা যাবে। তাছাড়া বেলুচিস্তান অশান্ত রেখে কতদিন সিপ্যাক রক্ষা করা যাবে তা নিয়ে চীন পাকিস্তান উভয়ের উদ্বেগে আছে। দুই দেশ ভালো করেই জানে ওই অঞ্চলের মানুষকে অশান্তিতে রেখে এসব পরিকল্পনা বাস্তবায়ন করা যাবে না। যা করতে হবে তা আলোচনার মাধ্যমে করেতে হবে। কিন্তু পাকিস্তান অনেকটা গায়ের জোরেই সি প্যাকের কাজ করে যাচ্ছে। এক সূত্র মতে জানা যায় সিপ্যাকের বাস্তবায়নে ৭ হাজার চীনা শ্রমিককে পাহারা দিচ্ছে পাকিস্তান সেনাবাহিনী ১৪ হাজার সৈন্য।
এদিকে ভারত বেলুচিস্তান আন্দোলনে জোর আনতে দেশটি রেডিও বেলুচিস্তান নামে একটি তরঙ্গ বরাদ্দ দিয়েছে। এই তরঙ্গ দিয়ে বেলুচ স্বাধীনতাকামীদের কথা চারিদিকে ছড়িয়ে দেয়া হবে। ১৯৭১ সালে ভারত পাকিস্তান থেকে পূর্ব পাকিস্তান বিচ্ছিন্ন করতে যে কৌশল নিয়েছিল, সেই একই কৌশল ভারত বেলুচিস্তানে নিতে যাচ্ছে। ভারতের এমন আগ্রাসী মনোভাবে পাকিস্তান বিচলিত। পাকিস্তান কাশ্মীর নিয়ে ভারতকে খোঁচা দিতেই আজ এই অবস্থার সৃষ্টি হয়েছে।
১৯৬২ সাল চীন ভারত যুদ্ধ হয়। তাতে ভারতে পরাজয় হয়। সেই যুদ্ধে তিব্বত কব্জা করে চীন। ১৯৬২ সালে শিশু ভারত যেমন ছিল আজ সে বিশ্বের একটি শক্তি। চীন সেবার জিতে গিয়েছিল প্রতিপক্ষ দুর্বল থাকার কারণে। কিন্তু এবার ভারত বহু ধরণের যুদ্ধ কলায় অভিজ্ঞ। এমনও হতে পারে এবার চীন বিরোধী যুদ্ধে তিব্বত হারাবে চীন। কারণ লক্ষাধিক তিব্বতি এখন ভারত চীন সীমান্তে অবস্থান নিয়ে আছে। আর তিব্বত ও চীনের ভিতর রয়েছে আরও কয়েক লাখ তিব্বতি। দালাইলামার এক ইশারায় চীনের ভিতর অন্য এক ধরনের যুদ্ধ শুরু করে দিতে পারে তিব্বতিরা। যা চীন এর আগেই কয়েকবার দেখেছে। চীনারা তিব্বতিদের ওই সব ঘটনাকে দালাই ক্লিক বলে মন্তব্য করেছিল। তাই চীন ভারতের সঙ্গে যুদ্ধে জড়ালে অনেক ধরনের হিসাব মাথায় নিয়েই যুদ্ধে জড়াবে। চীন ভারত যুদ্ধ হবে কিনা। তা নিয়ে অনেক সন্দেহ থাকতে পারে। তবে ভারত যে যুদ্ধের প্রস্তুতি নিয়ে রাখছে তা দেশটির সামরিক গতিবিধি দেখে পরিষ্কার হচ্ছে।

৩ হাজার ৫০০ কিলোমিটার (২ হাজার ১৭৪ মাইল) সীমান্তের এই দুই দেশের মধ্যে ১৯৬২ সালে যুদ্ধ বাধে। এ ছাড়া কাশ্মীর সীমান্তে পাকিস্তানের সঙ্গে উত্তেজনা চলছে। এমন অবস্থায় প্রশ্ন উঠেছে, যদি যেকোনো প্রতিপক্ষের সঙ্গে যুদ্ধে জড়ায়, তবে কত দিন পর্যন্ত ভারত যুদ্ধ করতে পারবে? দেশটির পার্লামেন্টে কম্পট্রোলার অ্যান্ড অডিটর জেনারেলের (সিএজি) এক প্রতিবেদনের পর এ প্রশ্ন সামনে এসেছে। প্রতিবেদনে কোনো দেশের সঙ্গে যুদ্ধ বাধলে কত দিন যুদ্ধ করার মতো অস্ত্র আছে ভারতের, তা বলা হয়েছে।
২০১৫ সালের মে মাসে ভারতের পার্লামেন্টে দেশটির কম্পট্রোলার অ্যান্ড অডিটর জেনারেল একটি প্রতিবেদন পেশ করে। সেই প্রতিবেদনে বিস্ময়কর সত্য প্রকাশ করা হয়। বলা হয়, যদি ভারতের সঙ্গে কারও যুদ্ধে বাধে, তবে কেবল ১০ দিনের মধ্যে বেশির ভাগ গোলাবারুদ শেষ হয়ে যাবে।
ওই প্রতিবেদন সেনাবাহিনীর ওপর একটা আঘাতের মতো ছিল। প্রতিবেদনে শঙ্কিত হয়ে সেনাবাহিনী বলেছে, ৪০ দিন ধরে ‘তীব্র’ যুদ্ধের জন্য গোলাবারুদ থাকার কথা এখানে ‘অবজ্ঞা’ করা রয়েছে। সিএজি প্রতিবেদনে বলেছে, ‘২০১৩ সালে মার্চ পর্যন্ত অস্ত্রভান্ডারের শতকরা ৫০ ভাগের অবস্থা এমন ছিল যে গোলাবারুদ দিয়ে ১০ দিনের বেশি যুদ্ধ করা সম্ভব নয়।’
ভারতের সেনাবাহিনীর অস্ত্রের কিছু ঘাটতি রয়েছে। এর মধ্য প্রধানত বন্দুক, ট্যাংক, বিমান এবং পদাতিক বাহিনীর জন্য গোলাবারুদের গুরুতর অভাব আছে। আর এই অভাব একটি যুদ্ধে লড়াই করা ভারতের জন্য খুব কঠিন হবে।
কিন্তু সেনাবাহিনী এখন সেই চ্যালেঞ্জ নিতে প্রস্তুত। সেনাবাহিনীর উপপ্রধান শরৎ চন্দ্রকে গোলাবারুদ এবং অস্ত্র কেনার পূর্ণ আর্থিক ক্ষমতা দিয়েছিল। সেনাবাহিনীর দক্ষতা বাড়িয়ে লড়াই করার জন্য সর্বোত্তম স্তর বজায় রাখার জন্যই তা দেওয়া হয়েছিল। তখন সিদ্ধান্ত ছিল, গোলাবারুদ ও অস্ত্র ক্রয় প্রক্রিয়া যেন দ্রুত সম্পন্ন করা হয়।
প্রতিবেদনে আশঙ্কা প্রকাশ করা হয়েছে, পাকিস্তান বা চীনের সঙ্গে একটি সংক্ষিপ্ত যুদ্ধের আশঙ্কার কি বিরোধিতা করা যাবে? যদি যুদ্ধের কোনো আশঙ্কা না-ও থাকে, তবে প্রতিরক্ষা বাহিনীর জন্য গোলাবারুদ সংরক্ষণ একটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ প্রক্রিয়া।
সিএজি প্রতিবেদনে ২০১৩ সালের মার্চ পর্যন্ত গোলাবারুদ রক্ষার বিষয়টি অন্তর্ভুক্ত ছিল। নরেন্দ্র মোদির সরকার ইতিমধ্যেই এ ঘাটতি পূরণে কাজ শুরু করেছে। ওই সময়ে পার্লামেন্টে প্রতিরক্ষামন্ত্রী মনোহর পারিকর নানা পদক্ষেপের কথা জানিয়েছিলেন। কী অস্ত্র কেনা হচ্ছে, তারও একটি তালিকা দিয়েছিলেন।
দেখে নেওয়া যাক কার হাতে কত অস্ত্র
সামরিক ক্ষমতা দিয়েই বিচার করা হয় আসলে কার খুঁটিতে কত জোর। সামরিক ক্ষমতায় বলীয়ান হতে বিত্তবান দেশগুলো নিরন্তর চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে। ধনী দেশগুলো কাঁড়ি কাঁড়ি টাকা ঢেলে সর্বাধুনিক অস্ত্র বাগাতে তৎপর। এই সুযোগে পরাশক্তির দুই দেশ যুক্তরাষ্ট্র ও রাশিয়া অস্ত্র বেচে মোটা অঙ্ক ঘরে তুলছে।
২০১৫ সালে গ্লোবাল ফায়ারপাওয়ার (জিএফপি) বৈশ্বিক সামরিক সক্ষমতার একটি সূচক প্রকাশ করেছিল। পারমাণবিক অস্ত্র বাদ দিয়ে প্রচলিত যুদ্ধের সক্ষমতা নিয়ে করা এই সূচকে শীর্ষ পাঁচ দেশ হলো যুক্তরাষ্ট্র, রাশিয়া, চীন, ভারত ও যুক্তরাজ্য। দেশগুলোর সামরিক সক্ষমতা বিশ্লেষণে স্থল, নৌ ও বিমান শক্তির পাশাপাশি সম্পদ, অর্থ, ভৌগোলিক বিষয়াবলি প্রভৃতি বিবেচনায় নেওয়া হয়েছে। জিএফপির সূচক অনুযায়ী চীন ও ভারতের সামরিক ভান্ডার হলো—
চীন
সামরিক সক্ষমতায় তৃতীয় অবস্থানে আছে চীন। যুদ্ধের জন্য দেশটির সক্রিয় সদস্য ২৩ লাখ ৩৩ হাজার। সক্রিয় সংরক্ষিত সদস্য ২৩ লাখ।
স্থলযুদ্ধের জন্য চীনের ট্যাংক আছে ৯ হাজার ১৫০টি। অস্ত্রবাহী যুদ্ধযান (এএফভি) আছে ৪ হাজার ৭৮৮টি। সেলফ-প্রপেল্ড গান (এসপিজি) ১ হাজার ৭১০টি। টাওয়েড-আর্টিলারি ৬ হাজার ২৪৬টি। মাল্টিপেল লান্স রকেট সিস্টেমস (এমএলআরএস) ১ হাজার ৭৭০টি।
দেশটির মোট সামরিক বিমান ২ হাজার ৮৬০টি। যুদ্ধবিমান ১ হাজার ৬৬টি। ফিক্সড-উইং অ্যাটাক এয়ারক্র্যাফট ১ হাজার ৩১১টি। পরিবহন বিমান ৮৭৬টি। প্রশিক্ষণ বিমান ৩৫২টি। হেলিকপ্টার ৯০৮টি। অ্যাটাক হেলিকপ্টার ১৯৬টি।
মোট নৌ সক্ষমতা ৬৭৩টি। বিমান বহনে সক্ষম রণতরি একটি। ফ্রিগেট ৪৭টি। ডেস্ট্রয়ার ২৫টি, করভেট ২৩টি। সাবমেরিন ৬৭টি, কোস্টাল ডিফেন্স ক্র্যাফট ১১টি, মেরিন ওয়ারফেয়ার ছয়টি।
ভারত
সামরিক সক্ষমতায় ভারতের অবস্থান চতুর্থ। যুদ্ধের জন্য দেশটির সক্রিয় সদস্যসংখ্যা ১৩ লাখ ২৫ হাজার। সক্রিয় সংরক্ষিত সদস্য ২১ লাখ ৪৩ হাজার।
স্থলযুদ্ধের জন্য ভারতের ট্যাংক আছে ৬ হাজার ৪৬৪টি। অস্ত্রবাহী যুদ্ধযান (এএফভি) আছে ৬ হাজার ৭০৪টি। সেলফ-প্রপেল্ড গান (এসপিজি) ২৯০টি। টাওয়েড-আর্টিলারি ৭ হাজার ৪১৪টি। মাল্টিপেল লান্স রকেট সিস্টেমস (এমএলআরএস) ২৯২টি।
ভারতের মোট সামরিক বিমান ১ হাজার ৯০৫টি। যুদ্ধবিমান ৬২৯টি। ফিক্সড-উইং অ্যাটাক এয়ারক্র্যাফট ৭৬১টি। পরিবহন বিমান ৬৬৭টি। প্রশিক্ষণ বিমান ২৬৩টি। হেলিকপ্টার ৫৮৪টি। অ্যাটাক হেলিকপ্টার ২০টি।
মোট নৌ সক্ষমতা ২০২টি। বিমান বহনে সক্ষম রণতরি দুটি। ফ্রিগেট ১৫টি। ডেস্ট্রয়ার নয়টি, করভেট ২৫টি, সাবমেরিন ১৫টি, কোস্টাল ডিফেন্স ক্র্যাফট ৪৬টি, মেরিন ওয়ারফেয়ার সাতটি।
তথ্যসূত্র: ইকোনমিক টাইমস ও গ্লোবাল ফায়ারপাওয়ার।
সম্পাদনাঃ নূর মোহাম্মদ নূরু
সাতলা নিউজ২৪.কম


দ্বিতীয় ধাপের গ্যাসের দাম বৃদ্ধি কার্যকর ১ জুন থেকে, প্রদান করতে হবে জুলাই মাসে

ঢাকার সম্প্রসারণে সঠিক ব্যবস্থাপনার পরামর্শ দিয়েছে বিশ্বব্যাংক


পাঠকের মন্তব্য

(মতামতের জন্যে সম্পাদক দায়ী নয়।)
বিশ্বের ক্ষমতাধর নারীর তালিকায় হাসিনার অবস্থানের উন্নতি
বিশ্বব্যাপী শ্রমজীবী মেহনতি মানুষের সংহতি প্রকাশের দিনঃ আন্তর্জাতিক শ্রমিক তথা ঐতিহাসিক মে দিবস আজ
বিশ্বখ্যাত ফরাসী লেখক ও সাংবাদিক এমিল জোলার ১৭৭তম জন্মদিন আজ
আমেরিকাকে একঘরে করে ফেলতে যাচ্ছেন ট্রাম্প
২৬ মার্চ মহান স্বাধীনতা ও জাতীয় দিবসে মুক্তিযুদ্ধে জীবন উৎসর্গকারী সকল শহীদদের স্মরন করছি গভীর শ্রদ্ধায়
১৯৭১ সালের ভয়াল ২৫ মার্চ কালো রাতের গণ হত্যা দিবস আজঃ চাই গণহত্যার আন্তর্জাতিক স্বীকৃতি
স্বাধীনতা যুদ্ধের অকুতভয় বীর সেনানী ৭নং সেক্টর কমাণ্ডার কর্নেল (অব.) কাজী নূরুজ্জামান, বীর উত্তম এর ৯২তম জন্মবার্ষিকী আজ
‘পানির জন্য প্রকৃতি’ প্রতিপাদ্য নিয়ে আজ পালিত হচ্ছে বিশ্ব পানি দিবস
কিংবদন্তি সানাই বাদক ওস্তাদ বিসমিল্লাহ খানের ১০১ জন্মবার্ষিকী আজ
‘৭১এ পাকিদের বিরুদ্ধে স্বাধীনতাযুদ্ধে অংশ গ্রহণকারী সবাই মুক্তিযোদ্ধা তবে সব মুক্তিযোদ্ধা দেশপ্রেমিক নয়