শিরোনাম: 
●   প্রখ্যাত মঞ্চ, টেলিভিশন ও চলচ্চিত্র অভিনেতা হুমায়ুন ফরীদির ৭ম মৃত্যুবার্ষিকীতে শ্রদ্ধাঞ্জলি ●   বসন্তের আগমন মানেই তরুণ হৃদয়ে নতুন প্রাণের সঞ্চার আর তারুণ্যের সাহসী উচ্ছ্বাস ●   উনিশ শতকের নব জাগরণের শ্রেষ্ঠ প্রতিভা, বাঙালির প্রমিথিউস মাইকেল মধুসূদন দত্তের ১৯৫তম জন্মবার্ষিকীতে শুভেচ্ছা ●   আজ শুক্রবার, সপ্তাহের সকল দিনের শ্রেষ্ঠ দিন জুম্মাবার সবাইকে জুম্মা মোবারক। ●   ইংরেজ রাজনীতিবিদ ও লেখক উইনস্টন চার্চিলের ৫৪তম মৃত্যুবার্ষিকীতে গভীর শ্রদ্ধাঞ্জলি ●   সাহিত্যরত্ন মুনশী আশরাফ হোসেনের ৫৪তম মৃত্যুবার্ষিকীতে শ্রদ্ধাঞ্জলি ●   ২৪ জানুয়ারি, ‘৬৯ এর গণ-অভ্যুত্থান দিবসঃ ঐতিহাসিক এই দিনটিকে স্মরণ করছি গভীর শ্রদ্ধায় ●   বাংলাদেশের চলচ্চিত্র জগতের খ্যাতিমান অভিনেতা অমল বোসের সপ্তম মৃত্যুবার্ষিকীতে শ্রদ্ধাঞ্জলি ●   উনিশ শতকে বাংলা সাহিত্যের উল্লেখযোগ্য কবি নবীনচন্দ্র সেন এর ১১০তম মৃত্যুবার্ষিকীতে শ্রদ্ধাঞ্জলি ●   খ্যাতিমান স্পেনীয় পরাবাস্তববাদী চিত্রকর সালভাদর দালির ৩০তম মৃত্যুবার্ষিকীতে শ্রদ্ধাঞ্জলি
ঢাকা, সোমবার, ১৮ ফেব্রুয়ারী ২০১৯, ৬ ফাল্গুন ১৪২৫
NEWS CHANNEL
প্রচ্ছদ » ফটো গ্যালারী » বিষমুক্ত ফলের বিদেশ গমন
সোমবার ● ১৩ জুন ২০১৬, ০৭:০৬ মিনিট
Email this News Print Friendly Version

বিষমুক্ত ফলের বিদেশ গমন

---

ফল একটি গুরুত্বপূর্ণ ও উপাদেয় খাবার। পুষ্টিবিজ্ঞানীদের মতে, প্রতিদিন স্বাভাবিক সব খাবারের সঙ্গে কিংবা খাবারের পরে কমপক্ষে ২০০ থেকে ২৫০ গ্রাম ফল খাওয়া স্বাস্থ্যসম্মত। পুষ্টিগত খাদ্যমান অনুযায়ী ফলে প্রচুর পরিমাণে আঁশ থাকে। ফলের এ আঁশ মানবদেহের বিভিন্ন খাদ্য সহজপাচ্য করতে সহায়তা করে থাকে। অনেক সময় কোনো অসুখ-বিসুখে ডাক্তাররা রোগীকে কোনো কোনো খাবার খেতে নিষেধ করে থাকেন। সে ক্ষেত্রে ফল খেতে তেমন কোনো নিষেধাজ্ঞা থাকতে দেখা যায় না। কারণ ফল তো মানুষের জন্য বরং রোগের পথ্য হিসেবে ব্যহার করা হয়ে থাকে। সেজন্য দেখা যায়, কেউ কোনো রোগী দেখতে গেলে সঙ্গে ভদ্রতাবশত কিছু ফল নিয়ে যান।

তা ছাড়া কোনো কোনো ফলের মধ্যে এমন কিছু পুষ্টি উপাদান রয়েছে, যা শুধু ওই ফল খেলেই কেবল তা পূরণযোগ্য, অন্য কোনো উপায়ে নয়। কাজেই ফল যে খুব উপকারী একটি খাবার, তাতে কোনো সন্দেহ নেই। এক পরিসংখ্যানে দেখা গেছে, বাংলাদেশে বিভিন্ন ঋতুবৈচিত্র্যে কমপক্ষে প্রায় ৬০-৭০ ধরনের ফল চাষ হয়ে থাকে। তার মধ্যে অর্ধেকের বেশি অর্থাৎ ৫৪ শতাংশ ফলের আবাদ হয় বৈশাখ, জ্যৈষ্ঠ, আষাঢ় ও শ্রাবণ- মাত্র এ চার মাস সময়ে। আর বাকি অর্ধেকের একটু কম অর্থাৎ ৪৬ শতাংশ ফল উৎপন্ন হয় বছরের আট মাস সময়ে। কাজেই বৈশাখ-জ্যৈষ্ঠ মাসকে বলা হয়ে ফলের মাস। কারণ এ সময়েই সবচেয়ে বেশি ও রসালো ফল উৎপাদিত হয়ে থাকে। সেগুলোর মধ্যে রয়েছে আম, লিচু, কাঁঠাল, আনারস ইত্যাদি। অন্যসব ফলের মাঝে এ কয়েকটি ফল খুবই রসালো ও সুস্বাদু। এর মধ্যে কাঁঠাল তো বাংলাদেশের জাতীয় ফল।

এখানে একটি বিষয় না বললেই নয়, আর তা হলো আম কিন্তু আবার আমাদের পার্শ্ববর্তী দেশ ভারতের জাতীয় ফল। আমার মনে হয় আম যে পরিমাণ মানুষের প্রিয় ফল, যেভাবে দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে আমের ফলন হয়, তাতে আমার বিবেচনায় মনে হয় যদি তা ভারতের জাতীয় ফল না হতো, তবে আমাদের বাংলাদেশের জাতীয় ফল হতে পারত। একসময় আমাদের বাংলাদেশের একটি অপবাদ ছিল তলাবিহীন ঝুড়ি হিসেবে। কিন্তু এখন দিন পাল্টেছে। এখন বিভিন্ন কৃষিপণ্য উৎপাদনে আমরা শুধু যে স্বয়ংসম্পূর্ণ তাই নয়। এখন আমরা ধান-চাল থেকে শুরু করে অনেক কৃষিপণ্যই বিদেশে রপ্তানি করছি এবং আয় করছি মূল্যবান বৈদেশিক মুদ্রা। এখন আম, কাঁঠাল, লিচু, আনারস, জামরুলসহ অনেক রসালো ফল রপ্তানি হচ্ছে ইউরোপ, আমেরিকা, মধ্যপ্রাচ্যসহ বিশ্বের বিভিন্ন দেশে। তবে এসব রপ্তানিযোগ্য ফলের একটি বিশেষত্ব থাকতে হয়, আর তা হলো কোনো ধরনের রাসায়নিক বিষমুক্ত, ভেজালমুক্ত অর্থাৎ এক কথায় নিরাপদ। এই বিষয়টি নিশ্চিত করা যাচ্ছিল না বলে দীর্ঘদিন আমাদের দেশের রপ্তানিযোগ্য ফলমূল থাকা সত্ত্বেও তা করা সম্ভব হয়নি। এর আগে দুয়েকবার চেষ্টা করেও ব্যর্থ হয়েছে এবং এমনও হয়েছে যে, ফল রপ্তানি করার পর তা বিদেশের ল্যাবে পরীক্ষায় যখন ত্রুটি ধরা পড়েছে, তখন সরাসরি তা ফেরত দেওয়া হয়েছে। এতে একদিকে যেমন আমাদের একটি সম্ভাবনাময় রপ্তানি খাত মার খেয়েছে, অপরদিকে বিদেশের মাটিতে আমাদের দেশের ভাবমূর্তি ও বিশ্বাসযোগ্যতা নষ্ট হয়েছে।

তাই দীর্ঘদিন ধরে এসব রসালো ফল রপ্তানি করার জন্য নানামুখী চেষ্টা করা হচ্ছিল। কৃষক, ব্যবসায়ী, রাসায়নিক কীটনাশক কোম্পানি, রপ্তানিকারক- সবার মধ্যে এ নিয়ে সচেতনতা সৃষ্টির চেষ্টা করা হয়, যাতে অন্তত বিদেশে রপ্তানিযোগ্য কোনো ফলে কোনো প্রকার রাসায়নিক মেশানো না হয়। তা ছাড়া রাসায়নিকের ক্ষতিকর প্রভাব নিয়েও ব্যাপক সচেতনতা সৃষ্টির চেষ্টা করা হতে থাকে। তারই অংশ হিসেবে সরকারের সংশ্লিষ্ট প্রশাসনের উদ্যোগে উৎপাদক, ভোক্তা, ব্যবসায়ী সবার মধ্যে যখন প্রিন্ট ও ইলেকট্রনিক মিডিয়ার কল্যাণে এর ব্যাপক প্রচার-প্রচারণা করা হয়। ফলে তা সবার মুখে মুখে চলে আসার কারণে বিগত কয়েক বছর থেকে ফলমূলে রাসায়নিক প্রয়োগ কিছুটা কমতে শুরু করে। জনগণও এসবের সুফল পাওয়া শুরু হয়েছে।

রমজান মাসে বিষমুক্ত ফলমূল ও খাদ্য সেবনের প্রত্যয়ে, সেই প্রক্রিয়ার অংশ হিসেবে এবারের (২০১৬) রমজানের আগে সরকারের বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের ‘বাংলাদেশ স্টান্ডার্ড অ্যান্ড টেস্টিং ইনস্টিটিউট (বিএসটিআই) কর্তৃক রমজানে ব্যবহারযোগ্য ছয়টি নিত্যপ্রয়োজনীয় ফলের নমুনা সংগ্রহ করে তা ল্যাবে পরীক্ষা করা হয়। সেখানে পরীক্ষার জন্য এ মৌসুমের বিভিন্ন ৬৮টি ফলের এবং বিভিন্ন খাদ্যের ১৮৩টি নমুনা সংগ্রহ করেছিল। সংগৃহীত ফল ও খাদ্যের নমুনায় কোনো রাসায়নিকের উপস্থিতি পাওয়া যায়নি। প্রকাশিত ফলাফলে এবারের পরীক্ষায় যে ছয়টি ফল উত্তীর্ণ হয়েছে সেগুলো হলো- খেজুর, আম, মাল্টা, আপেল, আঙুর ও লিচু। আম ও লিচুতে ফরমালিন পরীক্ষার জন্য রাজশাহী, চাঁপাইনবাবগঞ্জ ও সাতক্ষীরায় বিশেষ অভিযান অব্যাহত রয়েছে। পরীক্ষায় কোনো রাসায়নিকের উপস্থিতি পাওয়া যায়নি নিঃসন্দেহে আমাদের জন্য একটি স্বস্তির খবর। কিন্তু তাতে সেই স্বস্তির ফলে আত্মতুষ্টি নিয়ে বসে থাকার কোনো সুযোগ নেই।

এখানে মাত্র ৬৮ ও ১৮৩ টি নমুনায় কোনো রাসায়নিক পাওয়া না যাওয়ার অর্থ কিন্তু এখন আর রাসায়নিক ব্যবহার হচ্ছে না, এমনটি ভেবে বসে থাকলে চলবে না। কারণ এখানে একদিকে যেমন মাত্র কয়েকটি নমুনা পরীক্ষা করা হয়েছে, অপরদিকে রাসায়নিকের মধ্যে শুধু ফরমালিন পরীক্ষা করা হয়েছে। তার বাইরেও ফলে ক্ষতিকর কার্বাইডসহ আরো অনেক রাসায়নিক ব্যবহার হয়ে থাকে। তারপরও স্বস্তি ও কিছুটা আত্মতৃপ্তি পেতে কোনো অসুবিধা নেই এ কারণে যে, বিগত দিনগুলোতে যে ব্যাপক উদ্যোগ ও প্রচার-প্রচারণা চালানো হয়েছে তা ভেস্তে যায়নি। কিছুটা হলেও কাজ হতে শুরু করেছে। তার মানে হলো- এ নিয়ে আরো বেশি বেশি কাজ করলে একসময় শতভাগ সুফল পাওয়া যাবে এতে কোনো সন্দেহ নেই। আমরা জানি, ফলমূল ও খাদ্যে ভেজাল পরীক্ষার জন্য আন্তর্জাতিক ও মানসম্পন্ন যন্ত্রপাতি ও সঠিক পদ্ধতির মাধ্যমে করার জন্য হাইকোর্টের একটি রায় রয়েছে। মানুষের কল্যাণে হাইকোর্ট স্বতঃপ্রণোদিতভাবে এ গণমুখী রায় প্রদান করেছিলেন। তা ছাড়া সরকার কর্তৃক বিষয়টির গুরুত্ব বিবেচনায় নিরাপদ খাদ্য আইন-২০১৩ এবং তা আরো হালনাগাদ করে ফরমালিন নিয়ন্ত্রণ আইন-২০১৫ সংশোধিত আকারে কার্যকর করা হয়েছে। সেসব আইনের প্রয়োগ করেই বিগত কয়েক বছরে বিশেষ বিশেষ অভিযান পরিচালনা করে সুফল পাওয়া যাচ্ছে।

গত বছর পর্যন্ত আমগাছ থেকে ফল সংগ্রহ করার জন্য একটি নির্দিষ্ট সময় বেঁধে দেওয়া হয়েছিল। এর একটি যৌক্তিকতা হলো- একেক জাতের আম পাকার একেকটি নির্ধারিত সময় রয়েছে। তার আগে পেড়ে ফেললে তা অপরিপক্ব থেকে যায়। আর অপরিপক্ব আম দীর্ঘদিনেও স্বাভাবিকভাবে পাকবে না। সে জন্য সেই অপরিপক্ব ফলকে পাকাতেই প্রয়োগ করা হবে ক্ষতিকর রাসায়নিক। আরেকটি ব্যবস্থা ব্যাপক সাড়া জাগিয়েছিল গত কয়েক বছরে। আর সেটি হচ্ছে- দেশের আম উৎপাদনকারী এলাকা হতে আমের যেসব চালান ট্রাকের মাধ্যমে ঢাকা শহরে এসে পৌঁছাবে, সেগুলো গাবতলীসহ আরো কয়েকটি পয়েন্টে ভ্রাম্যমাণ কয়েকটি টিম কর্তৃক প্রয়োজনীয় যন্ত্রপাতি নিয়ে আমে রাসায়নিক মিশ্রিত রয়েছে কি না তা সরাসরি পরীক্ষা করবে। যদি নমুনায় প্রমাণিত হয় যে সেগুলোতে ক্ষতিকর রাসায়নিক রয়েছে, তাহলে তা সেখানেই ধ্বংস করে ফেলা হয়েছে। এতে যদিও উৎপাদক, কৃষক ব্যবসায়ীদের অনেক ক্ষতি হয়েছে এবং এ পদ্ধতির পরীক্ষা-নিরীক্ষা নিয়ে অনেক কথাবার্তা রয়েছে, তারপরও তা খুবই প্রয়োজন ছিল। কারণ বাঙালি স্বাভাবিকভাবে কোনো কথা গায়ে লাগাতে চায় না। সেসব ক্ষতির মুখে পড়ে তারা একটি জিনিস পরিষ্কার হয়েছে যে, এভাবে ব্যবসা করা যাবে না মর্মে বোধদয় হয়েছে তাদের। প্রকৃতপক্ষে এসব কর্মকাণ্ডের সুফল এখন কিছটা হলেও পাওয়া যাচ্ছে। অথচ এমন একটি সময় ছিল যখন কোনো ফলেই কোনো প্রকার রাসায়নিক ব্যবহার করা হতো না। আমরা আমাদের ছোটবেলাতেই সব ফলমূলই বিষমুক্ত হিসেবে খেতে পেরেছি। মানুষ যত বেশি সভ্য হচ্ছে, তত বেশি লোভ-লালসা বেড়ে যাচ্ছে। সে জন্য আরো বেশি লাভের জন্য মানুষ জনস্বাস্থ্যকে কোনো গুরুত্ব না দিয়ে মারণাস্ত্র হিসেবে ক্ষতিকর রাসায়নিক ব্যবহার শুরু করে দেয়। কিন্তু এখন আবার দিন পাল্টাতে শুরু করেছে, একটি সচেতনতা বিপ্লবের ফলে। আর সে কারণেই আমরা এখন ফল সহজেই বিদেশে রপ্তানি করছি এবং তা করার সাহস পাচ্ছি।

আমাদের দেশের আমের চাহিদা বিদেশে সবচেয়ে বেশি। তারপর কাঁঠাল, লিচু, জামরুলসহ আরো অন্যান্য ফল। কাঁঠালের চাহিদা রয়েছে শুধু মধ্যপ্রাচ্যসহ কয়েকটি দেশে, যেখানে আমাদের প্রবাসী বাংলাদেশিরা রয়েছে। তবে কাঁঠালে কোনো প্রকার ক্ষতিকর রাসায়নিক ব্যবহার করা হয় না সাধারণত। আর লিচু স্বল্পমেয়াদি একটি ফল হওয়ার কারণে কিশোরগঞ্জের পাকুন্দিয়ার মঙ্গলবাড়ী, দিনাজপুরের চায়না-৩ এবং বেদানা জাতের কিছু লিচুর ব্যাপক চাহিদা রয়েছে মধ্যপ্রাচ্যসহ বিশ্বের বাংলাদেশি অধ্যুষিত কিছু দেশে। লিচুকেও রাসায়নিকমুক্ত রাখার জন্য আমের মতোই ট্রিটমেন্ট করা হয়ে থাকে। সীমিত আকারে এখন আনারস, জাম, লটকন, জামরুলসহ অন্যান্য কিছু প্রচলিত এবং অপ্রলিত ফলমূল কৃষিপণ্য হিসেবে বিদেশে রপ্তানি করা হচ্ছে।

তবে রপ্তানির তালিকায় এখনো আমই প্রধান। আম একটি অন্যতম সুস্বাদু ফল। ফজলি, ল্যাংড়া, আম্রপালি, ক্ষিরসাপাতি, হিমসাগর, চোষা প্রভৃতি জাতের আমের বিশেষ কদর রয়েছে, এদের স্বাদও গন্ধের জন্য। এর সুমিষ্ট স্বাদ ও গন্ধ সহজেই মানুষের জিহ্বায় পানি এনে দেয়। এতে রয়েছে মানবদেহের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ ভিটামিন এ-সহ আরো অনেক পুষ্টি উপাদান। আর এ জন্য বিদেশে আমের অনেক চাহিদা রয়েছে। একসময় আমাদের বাংলাদেশে রাজশাহী, চাঁপইনবাবগঞ্জ, দিনাজপুর, কুষ্টিয়া, মেহেরপুর ইত্যাদি কয়েকটি জেলাতেই সীমাবদ্ধ ছিল। কিন্তু বর্তমানে দেশের ২২টি জেলাতে উন্নত জাতের আমের চাষ বাণিজ্যিকভাবে হয়ে থাকে। এতে যেমন রয়েছে লবণাক্ত এলাকা, তেমনি রয়েছে খাগড়াছড়ি, কাপ্তাই ও বান্দবানের মতো পাহাড়ি এলাকাও।

এক পরিসংখানে প্রকাশ, দেশে মোট আবাদি জমির ১.৬৬ শতাংশ এলাকাতে আম চাষ হয়ে থাকে। গত বছর (২০১৫) দেশে মোট এক লাখ ৬৮ হাজার ৩১৭ হেক্টর জমিতে আমচাষ হয়েছিল। এবার (২০১৬) আরো কমপক্ষে এক হাজার হেক্টর জমি এর আওতায় বেড়ে এখন এক লাখ ৬৯ হাজার ৩০০ হেক্টর জমিতে আম চাষ হয়েছে। এসব স্থানে আমের উৎপাদন লক্ষ্যমাত্রা ধরা হয়েছে ২০ লাখ মেট্রিক টন। এক হিসাবে দেখা গেছে, আমাদের দেশে যে পরিমাণ আম উৎপাদন হয় তার মাত্র ৩০ শতাংশই আমাদের দেশের চাহিদার জন্য যথেষ্ট। সেখানে ৭০ শতাংশ আমই বিদেশে রপ্তানি করার সুযোগ রয়েছে। কাজেই বোঝা যাচ্ছে, যদি এ বিপুল পরিমাণ আম রপ্তানির বাজার সৃষ্টি করা যায়, তবে এক আম রপ্তানি করেই দেশে অনেক বৈদেশিক মুদ্রা অর্জন করা সম্ভব। দেশের ব্যবহারের জন্য যদিও আমের গাছে কীটনাশক স্প্রে করার ৪৫ দিন সময় পরে সে গাছ থেকে আম সংগ্রহের কথা বলা হয়েছে। কিন্তু বিদেশে রপ্তানি করা আমে কোনো প্রকার রাসায়নিক ব্যবহার করা যাবে না।

সেজন্য বিজ্ঞানীরা এক বিশেষ ধরনের কাগজের তৈরি ব্যাগ আবিষ্কার করেছেন। এ ব্যাগ আমের গুটি একটু বড় হওয়ার পর থেকে সেই আম কিংবা আমের থোকা ঢেকে দিতে হয়। সে ব্যাগকে বলা হয় ‘ফ্রুট ব্যাগ’ আর পদ্ধতিকে বলা হয় ‘ফ্রুট ব্যাগিং’। এটি বিদেশে রপ্তানিযোগ্য আমের জন্য কৃষকপর্যায়ে খুবই জনপ্রিয়তা পেয়েছে। কারণ তা পুনরায় দু-তিন মৌসুম ব্যবহার করা যায়। এর দাম মাত্র চার-পাঁচ টাকা। কাজেই কম খরচে সম্পূর্ণ বৈজ্ঞানিকভাবে এ পদ্ধতি খুবই কার্যকরী। এভাবে উৎপাদনের জন্য বাংলাদেশ এখন বিশ্বের অষ্টম আম উৎপাদনকারী দেশ। আগে ইউরোপসহ আরো অনেক দেশে এ অঞ্চলের ভারত, পাকিস্তান, ফিলিপাইন, থাইল্যান্ড থেকে রপ্তানি করা হতো। কিন্তু বর্তমানে সেসব দেশের পাশাপাশি বাংলাদেশও আম রপ্তানিকারক একটি দেশের ম


বরিশালে রেড ক্রিসেন্টের কমিটি নিয়ে ছাত্রলীগের সংঘর্ষ, আহত ৪

বৃষ্টিস্নাত ফ্রাঙ্কোফলি উৎসবে মানুষের ঢল


আরো পড়ুন...

প্রখ্যাত মঞ্চ, টেলিভিশন ও চলচ্চিত্র অভিনেতা হুমায়ুন ফরীদির ৭ম মৃত্যুবার্ষিকীতে শ্রদ্ধাঞ্জলি প্রখ্যাত মঞ্চ, টেলিভিশন ও চলচ্চিত্র অভিনেতা হুমায়ুন ফরীদির ৭ম মৃত্যুবার্ষিকীতে শ্রদ্ধাঞ্জলি
বসন্তের আগমন মানেই তরুণ হৃদয়ে নতুন প্রাণের সঞ্চার আর তারুণ্যের সাহসী উচ্ছ্বাস বসন্তের আগমন মানেই তরুণ হৃদয়ে নতুন প্রাণের সঞ্চার আর তারুণ্যের সাহসী উচ্ছ্বাস
উনিশ শতকের নব জাগরণের শ্রেষ্ঠ প্রতিভা, বাঙালির প্রমিথিউস মাইকেল মধুসূদন দত্তের ১৯৫তম জন্মবার্ষিকীতে শুভেচ্ছা উনিশ শতকের নব জাগরণের শ্রেষ্ঠ প্রতিভা, বাঙালির প্রমিথিউস মাইকেল মধুসূদন দত্তের ১৯৫তম জন্মবার্ষিকীতে শুভেচ্ছা
আজ শুক্রবার, সপ্তাহের সকল দিনের শ্রেষ্ঠ দিন জুম্মাবার সবাইকে জুম্মা মোবারক। আজ শুক্রবার, সপ্তাহের সকল দিনের শ্রেষ্ঠ দিন জুম্মাবার সবাইকে জুম্মা মোবারক।
ইংরেজ রাজনীতিবিদ ও লেখক উইনস্টন চার্চিলের ৫৪তম মৃত্যুবার্ষিকীতে গভীর শ্রদ্ধাঞ্জলি ইংরেজ রাজনীতিবিদ ও লেখক উইনস্টন চার্চিলের ৫৪তম মৃত্যুবার্ষিকীতে গভীর শ্রদ্ধাঞ্জলি
সাহিত্যরত্ন মুনশী আশরাফ হোসেনের ৫৪তম মৃত্যুবার্ষিকীতে শ্রদ্ধাঞ্জলি সাহিত্যরত্ন মুনশী আশরাফ হোসেনের ৫৪তম মৃত্যুবার্ষিকীতে শ্রদ্ধাঞ্জলি
২৪ জানুয়ারি, ‘৬৯ এর গণ-অভ্যুত্থান দিবসঃ ঐতিহাসিক এই দিনটিকে স্মরণ করছি গভীর শ্রদ্ধায় ২৪ জানুয়ারি, ‘৬৯ এর গণ-অভ্যুত্থান দিবসঃ ঐতিহাসিক এই দিনটিকে স্মরণ করছি গভীর শ্রদ্ধায়
বাংলাদেশের চলচ্চিত্র জগতের খ্যাতিমান অভিনেতা অমল বোসের সপ্তম মৃত্যুবার্ষিকীতে শ্রদ্ধাঞ্জলি বাংলাদেশের চলচ্চিত্র জগতের খ্যাতিমান অভিনেতা অমল বোসের সপ্তম মৃত্যুবার্ষিকীতে শ্রদ্ধাঞ্জলি
উনিশ শতকে বাংলা সাহিত্যের উল্লেখযোগ্য কবি নবীনচন্দ্র সেন এর ১১০তম মৃত্যুবার্ষিকীতে শ্রদ্ধাঞ্জলি উনিশ শতকে বাংলা সাহিত্যের উল্লেখযোগ্য কবি নবীনচন্দ্র সেন এর ১১০তম মৃত্যুবার্ষিকীতে শ্রদ্ধাঞ্জলি
খ্যাতিমান স্পেনীয় পরাবাস্তববাদী চিত্রকর সালভাদর দালির ৩০তম মৃত্যুবার্ষিকীতে শ্রদ্ধাঞ্জলি খ্যাতিমান স্পেনীয় পরাবাস্তববাদী চিত্রকর সালভাদর দালির ৩০তম মৃত্যুবার্ষিকীতে শ্রদ্ধাঞ্জলি

পাঠকের মন্তব্য

(মতামতের জন্যে সম্পাদক দায়ী নয়।)
প্রখ্যাত মঞ্চ, টেলিভিশন ও চলচ্চিত্র অভিনেতা হুমায়ুন ফরীদির ৭ম মৃত্যুবার্ষিকীতে শ্রদ্ধাঞ্জলি
বসন্তের আগমন মানেই তরুণ হৃদয়ে নতুন প্রাণের সঞ্চার আর তারুণ্যের সাহসী উচ্ছ্বাস
উনিশ শতকের নব জাগরণের শ্রেষ্ঠ প্রতিভা, বাঙালির প্রমিথিউস মাইকেল মধুসূদন দত্তের ১৯৫তম জন্মবার্ষিকীতে শুভেচ্ছা
আজ শুক্রবার, সপ্তাহের সকল দিনের শ্রেষ্ঠ দিন জুম্মাবার সবাইকে জুম্মা মোবারক।
ইংরেজ রাজনীতিবিদ ও লেখক উইনস্টন চার্চিলের ৫৪তম মৃত্যুবার্ষিকীতে গভীর শ্রদ্ধাঞ্জলি
সাহিত্যরত্ন মুনশী আশরাফ হোসেনের ৫৪তম মৃত্যুবার্ষিকীতে শ্রদ্ধাঞ্জলি
২৪ জানুয়ারি, ‘৬৯ এর গণ-অভ্যুত্থান দিবসঃ ঐতিহাসিক এই দিনটিকে স্মরণ করছি গভীর শ্রদ্ধায়
বাংলাদেশের চলচ্চিত্র জগতের খ্যাতিমান অভিনেতা অমল বোসের সপ্তম মৃত্যুবার্ষিকীতে শ্রদ্ধাঞ্জলি
উনিশ শতকে বাংলা সাহিত্যের উল্লেখযোগ্য কবি নবীনচন্দ্র সেন এর ১১০তম মৃত্যুবার্ষিকীতে শ্রদ্ধাঞ্জলি
খ্যাতিমান স্পেনীয় পরাবাস্তববাদী চিত্রকর সালভাদর দালির ৩০তম মৃত্যুবার্ষিকীতে শ্রদ্ধাঞ্জলি